ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ভোলায় সার পাচারের সন্দেহে ২৯০ বস্তা জব্দ, গোডাউন সিলগালা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলার ইলিশা থেকে নদীপথে জেলার বাইরে সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই সন্দেহে মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর ইলিশা গ্রামের দারগার খাল এলাকা থেকে স্থানীয়রা ২৯০ বস্তা সার আটক করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সারগুলো উদ্ধার করেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাশ। জব্দ করা সারগুলো বর্তমানে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার বেশি মুনাফায় বিক্রির উদ্দেশ্যে গোপনে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার নদীপথে ভোলা থেকে মাদারীপুরে নেওয়ার পথে একটি ট্রলার ও একটি নসিমন থেকে এই সার আটক করা হয়। জব্দকৃত প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে টিএসপি ও ডিএপি সার ছিল।

এ বিষয়ে ট্রলারের মাঝি শহীদ দাবি করেন, চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মন্নান নামে দুজন বিএডিসি ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্স থেকে এগুলো কিনেছেন। বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই সারগুলো পরিবহন করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করলেও পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এই সার কেনার পক্ষে কোনো রসিদ দেখাতে পারেননি কৃষক রফিক। কৃষক রফিকও একই দাবি করে বলেন, চাষের কাজে ব্যবহারের জন্য কিনে সেগুলো চরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এদিকে স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, মাঝির কাছে পাওয়া একটি রসিদে মাত্র ৮০ বস্তা ডিএপি সারের হিসাব রয়েছে, যার দাম দেখানো হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। তার প্রশ্ন, বাকি ২১০ বস্তা সারের কোনো বৈধ কাগজপত্র কেন নেই। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার সিন্ডিকেটের কারণে সারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং ডিলাররা কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে সাধারণ কৃষকরা বাজারে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না এবং দামও বেশি গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, ট্রলারের মাঝি শহীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি রসিদে ৮০ বস্তা ডিএপি সারের দাম প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা হিসাবে মোট ৮৪ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। তার প্রশ্ন, ৮০ বস্তার রসিদ থাকলে বাকি ২১০ বস্তা এলো কোথা থেকে। ফলে বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

অভিযুক্ত ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, ডিলার পয়েন্টের দাবি অনুযায়ী, সারগুলো ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

ইউএনও সজল কুমার দাশ জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে সারগুলোর বৈধ কোনো নথিপত্র দেখাতে না পারায় এগুলো সিলগালা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধ পন্থায় সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভোলায় সার পাচারের সন্দেহে ২৯০ বস্তা জব্দ, গোডাউন সিলগালা

আপডেট সময় : ০৯:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভোলার ইলিশা থেকে নদীপথে জেলার বাইরে সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই সন্দেহে মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর ইলিশা গ্রামের দারগার খাল এলাকা থেকে স্থানীয়রা ২৯০ বস্তা সার আটক করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সারগুলো উদ্ধার করেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাশ। জব্দ করা সারগুলো বর্তমানে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার বেশি মুনাফায় বিক্রির উদ্দেশ্যে গোপনে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার নদীপথে ভোলা থেকে মাদারীপুরে নেওয়ার পথে একটি ট্রলার ও একটি নসিমন থেকে এই সার আটক করা হয়। জব্দকৃত প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে টিএসপি ও ডিএপি সার ছিল।

এ বিষয়ে ট্রলারের মাঝি শহীদ দাবি করেন, চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মন্নান নামে দুজন বিএডিসি ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্স থেকে এগুলো কিনেছেন। বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই সারগুলো পরিবহন করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করলেও পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এই সার কেনার পক্ষে কোনো রসিদ দেখাতে পারেননি কৃষক রফিক। কৃষক রফিকও একই দাবি করে বলেন, চাষের কাজে ব্যবহারের জন্য কিনে সেগুলো চরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এদিকে স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, মাঝির কাছে পাওয়া একটি রসিদে মাত্র ৮০ বস্তা ডিএপি সারের হিসাব রয়েছে, যার দাম দেখানো হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। তার প্রশ্ন, বাকি ২১০ বস্তা সারের কোনো বৈধ কাগজপত্র কেন নেই। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার সিন্ডিকেটের কারণে সারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং ডিলাররা কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে সাধারণ কৃষকরা বাজারে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না এবং দামও বেশি গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, ট্রলারের মাঝি শহীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি রসিদে ৮০ বস্তা ডিএপি সারের দাম প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা হিসাবে মোট ৮৪ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। তার প্রশ্ন, ৮০ বস্তার রসিদ থাকলে বাকি ২১০ বস্তা এলো কোথা থেকে। ফলে বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

অভিযুক্ত ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, ডিলার পয়েন্টের দাবি অনুযায়ী, সারগুলো ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।

ইউএনও সজল কুমার দাশ জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে সারগুলোর বৈধ কোনো নথিপত্র দেখাতে না পারায় এগুলো সিলগালা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধ পন্থায় সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি।