ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কসবায় ব্যবসায়ী মৃত্যুর ঘটনা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় এক ব্যক্তি ও তার দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এই রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া এবং তার দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। বিচারক যখন রায় ঘোষণা করেন, তখন কামাল মিয়া এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার বাবা মোতাহার ও ভাই মনির বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে খালাস পাওয়া ছয়জন হলেন কামাল মিয়ার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও শরীফ মিয়া, স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মনির মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম এবং নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিনসহ তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা।

মামলার নথি ও এজাহার থেকে জানা যায়, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিমবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মিয়ার শত্রুতা তৈরি হয়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে পাওনা টাকা পরিশোধ বা আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে ডেকে নেন মনির ও তার স্বজনেরা। মানিক সেখানে পৌঁছামাত্র মনিরসহ আসামিরা তার ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালান। মারধরে গুরুতর জখম মানিককে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

ঘটনার পর নিহত মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের নভেম্বরে পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং অপর দুজনকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক বিশ্লেষণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম জানান, তারা সব আসামির খালাস আশা করেছিলেন। ফলে এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। অন্যদিকে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধান হামলাকারীদের সাজা হওয়ায় বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট এবং তাদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কসবায় ব্যবসায়ী মৃত্যুর ঘটনা মামলায় বাবা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া হত্যা মামলায় এক ব্যক্তি ও তার দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এই রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের মোতাহার মিয়া এবং তার দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। বিচারক যখন রায় ঘোষণা করেন, তখন কামাল মিয়া এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার বাবা মোতাহার ও ভাই মনির বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে খালাস পাওয়া ছয়জন হলেন কামাল মিয়ার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও শরীফ মিয়া, স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মনির মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম এবং নবীর হোসেনের স্ত্রী মোছা. জিয়াসমিনসহ তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা।

মামলার নথি ও এজাহার থেকে জানা যায়, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিমবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মানিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী মনির মিয়ার শত্রুতা তৈরি হয়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে পাওনা টাকা পরিশোধ বা আলোচনার কথা বলে মানিক মিয়াকে ডেকে নেন মনির ও তার স্বজনেরা। মানিক সেখানে পৌঁছামাত্র মনিরসহ আসামিরা তার ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালান। মারধরে গুরুতর জখম মানিককে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

ঘটনার পর নিহত মানিক মিয়ার স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের নভেম্বরে পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং অপর দুজনকে দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক বিশ্লেষণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার ই আলম জানান, তারা সব আসামির খালাস আশা করেছিলেন। ফলে এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। অন্যদিকে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধান হামলাকারীদের সাজা হওয়ায় বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট এবং তাদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই।