ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে নেতানিয়াহুর আহ্বান, বৈঠকে বিরোধীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলের রাজনীতিতে সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আরব দলগুলোকে বাইরে রেখে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের ডাক দিয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহের নির্বাচনের ফলাফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির বড় দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইহুদি জনগণের বড় একটি অংশ লিকুদকে সমর্থন দিয়েছে এবং তাকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্যও আমাকে বেছে নিয়েছে।’। ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট কাটানোর ৪ পথ। গত সপ্তাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর বিরোধী শিবিরের নেতাদের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক।

নেতানিয়াহুর এই আহ্বানের বিপরীতে বিরোধী জোটের নেতারা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। সরকার গঠনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে আজ মঙ্গলবার হার্জলিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন পরিবর্তনপন্থী জোটের নেতারা। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বিরোধী জোটের সদস্যরা এখন পর্যন্ত আইজেনকটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। এমনকি আরব দলগুলোও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ পর্যন্ত এসব আলোচনার বিস্তারিত খুব বেশি জানা যায়নি।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন, যার মধ্যে তার নিজের দল লিকুদ পার্টির দখলে ২৭টি। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা বর্তমান সরকার গঠনের সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পর্দার আড়ালে সরকার গঠন নিয়ে ব্যাপক দরকষাকষি ও আলোচনা চলছে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনোভাবেই আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোট করবেন না। তাঁর অভিযোগ, এই দলগুলো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। যদিও আরব দলগুলোর নেতারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন, তবে তারা হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দেয়নি। নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, তিনি এমন সব অংশীদারদের নিয়ে সরকার গড়তে আগ্রহী যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের সরকার গঠিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে নেতানিয়াহুর আহ্বান, বৈঠকে বিরোধীরা

আপডেট সময় : ০৭:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের রাজনীতিতে সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আরব দলগুলোকে বাইরে রেখে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের ডাক দিয়েছেন তিনি। গত সপ্তাহের নির্বাচনের ফলাফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির বড় দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইহুদি জনগণের বড় একটি অংশ লিকুদকে সমর্থন দিয়েছে এবং তাকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্যও আমাকে বেছে নিয়েছে।’। ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট কাটানোর ৪ পথ। গত সপ্তাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর বিরোধী শিবিরের নেতাদের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক।

নেতানিয়াহুর এই আহ্বানের বিপরীতে বিরোধী জোটের নেতারা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। সরকার গঠনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে আজ মঙ্গলবার হার্জলিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন পরিবর্তনপন্থী জোটের নেতারা। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বিরোধী জোটের সদস্যরা এখন পর্যন্ত আইজেনকটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। এমনকি আরব দলগুলোও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ পর্যন্ত এসব আলোচনার বিস্তারিত খুব বেশি জানা যায়নি।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন, যার মধ্যে তার নিজের দল লিকুদ পার্টির দখলে ২৭টি। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা বর্তমান সরকার গঠনের সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পর্দার আড়ালে সরকার গঠন নিয়ে ব্যাপক দরকষাকষি ও আলোচনা চলছে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনোভাবেই আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো জোট করবেন না। তাঁর অভিযোগ, এই দলগুলো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। যদিও আরব দলগুলোর নেতারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন, তবে তারা হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দেয়নি। নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, তিনি এমন সব অংশীদারদের নিয়ে সরকার গড়তে আগ্রহী যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের সরকার গঠিত হয়।