যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সাইয়েদ
- আপডেট সময় : ১১:০১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। এই বিজয়ের মাধ্যমে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে তিনি এই সাফল্য নিশ্চিত করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফলাফলের ভিত্তিতে জানা গেছে, আগামী জানুয়ারিতে কংগ্রেসের নতুন অধিবেশন শুরুর পর তিনি বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
নির্বাচনে এল-সাইয়েদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৬৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রিপাবলিকান নেতা ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা রজার্স প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের জোরালো সমর্থন পেয়েছিলেন। তবে চূড়ান্ত ভোটে এল-সাইয়েদ তাঁকে পেছনে ফেলে জয়ী হন। মিশিগানের এই আসনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি ধরে রাখার মাধ্যমে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ছিল তাদের।
মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান পেশায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদ এর আগে ওয়েইন কাউন্টি এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে লড়াই করেও পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির মাধ্যমে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর প্রচারণার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। মিশিগানের এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রিপাবলিকান নেতাদের কেউ কেউ তাঁর মুসলিম পরিচয় এবং তথাকথিত মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যদিও এল-সাইয়েদ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা ও গাজায় সামরিক অভিযানের সমালোচনা করায় তিনি ভোটারদের একাংশের আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। সব বিতর্ক কাটিয়ে অবশেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করলেন। এসব অবস্থানের কারণে কিছু ভোটারের সমালোচনার মুখে পড়েন এল-সাইয়েদ।
























