ইসরায়েলি নির্বাচনে কিংমেকার আরব মুসলিম ভোটাররা
- আপডেট সময় : ০৯:১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েলের দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে দেশটিতে বসবাসরত আরব মুসলিম নাগরিকদের ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু সরকারকে উৎখাত করতে আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আরব নেতারা।
আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরবর্তী প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষা, যাকে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ নেতৃত্বের প্রতি একটি জনমতের যাচাই হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘু, যারা ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হলেও বর্তমানে ইসরায়েলি নাগরিকত্বধারী।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য ফলাফল
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহু-বিরোধী জোট এবং বর্তমান ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে আইজেনকোটের জোট ৫২টি এবং নেতানিয়াহুর দল ৫০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার চাবিকাঠি এখন আরব ভোটারদের হাতে।
- ইউনাইটেড আরব লিস্ট পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাস এবং জয়েন্ট লিস্টের শীর্ষ নেতা আহমেদ তিবি বিশ্বাস করেন, সরকার পরিবর্তনে আরবদের সক্রিয় অংশগ্রহণই মূল নিয়ামক হবে।
- জরিপ বলছে, মনসুর আব্বাসের দল পাঁচটি এবং আহমেদ তিবির জয়েন্ট লিস্ট আটটি আসন অর্জন করতে পারে।
- আইজেনকোট আনুষ্ঠানিকভাবে আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠনের বিষয়ে অনাগ্রহ দেখালেও, ভোটের পর পরিবর্তিত বাস্তবতায় আব্বাস সরকার গঠনের নতুন সমীকরণের আশা করছেন।
ভোটারদের অংশগ্রহণ ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
ইসরায়েলের বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য বেজালেল স্মোটরিচ এবং পুলিশ মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের অতি-ডানপন্থী কর্মকাণ্ড আরব ভোটারদের মধ্যে ভোটদানে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। স্ট্যাট-নেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ২০২২ সালে যেখানে আরবদের ভোটদানের হার ছিল ৫৬ শতাংশ, সেখানে এবার তা ৬৩ শতাংশে উন্নীত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আরব ভোটারদের এই উচ্চহার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


























