ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। আয়োজক হিসেবে ছিল জেট্রো এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন, যেখানে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয় সহযোগিতা করেছে। এই ফোরামে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি ১৭টি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চিহ্নিত অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ, লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। তিনি জানান, সরকারি নীতি সংস্কার এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে জাপানি উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। குறிப்பாக জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার কথা তিনি তুলে ধরেন।

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল শহরগুলোকে ঘিরে আধুনিক দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ইলেকট্রনিকস শিল্পকে কেন্দ্র করে বিশেষ ‘বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কর কাঠামো ও শুল্ক ব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ফোরামের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে টয়োটা তসুশো করপোরেশন, মিৎসুই অ্যান্ড কো. এবং কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা বক্তব্য দেন। ফোরামের ঘোষণাপর্বের সরবরাহকৃত ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী ১৭টি প্রকল্পের উল্লেখ করা হয়।

বিনিয়োগ সেশনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গঠনে সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন। এছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ব্যবসা সহজীকরণে গৃহীত নতুন উদ্যোগগুলোর বর্ণনা দেন। অন্যদিকে, জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং রেইসুকে আরাতানি বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার কথা জানান। জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মিৎসুই অ্যান্ড কো. (এশিয়া প্যাসিফিক)-এর ঢাকা শাখার ব্রাঞ্চ জেনারেল ম্যানেজার ও কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতোর উপস্থাপনার বিষয় ছিল বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে যৌথ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বাংলাদেশের উদীয়মান ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেট্রো ঢাকা কার্যালয়ের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুআকি কাতাওকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। আয়োজক হিসেবে ছিল জেট্রো এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন, যেখানে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয় সহযোগিতা করেছে। এই ফোরামে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি ১৭টি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চিহ্নিত অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ, লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। তিনি জানান, সরকারি নীতি সংস্কার এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে জাপানি উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। குறிப்பாக জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার কথা তিনি তুলে ধরেন।

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল শহরগুলোকে ঘিরে আধুনিক দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ইলেকট্রনিকস শিল্পকে কেন্দ্র করে বিশেষ ‘বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কর কাঠামো ও শুল্ক ব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ফোরামের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে টয়োটা তসুশো করপোরেশন, মিৎসুই অ্যান্ড কো. এবং কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা বক্তব্য দেন। ফোরামের ঘোষণাপর্বের সরবরাহকৃত ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী ১৭টি প্রকল্পের উল্লেখ করা হয়।

বিনিয়োগ সেশনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গঠনে সরকারের রূপরেখা তুলে ধরেন। এছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ব্যবসা সহজীকরণে গৃহীত নতুন উদ্যোগগুলোর বর্ণনা দেন। অন্যদিকে, জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং রেইসুকে আরাতানি বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার কথা জানান। জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মিৎসুই অ্যান্ড কো. (এশিয়া প্যাসিফিক)-এর ঢাকা শাখার ব্রাঞ্চ জেনারেল ম্যানেজার ও কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতোর উপস্থাপনার বিষয় ছিল বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে যৌথ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বাংলাদেশের উদীয়মান ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেট্রো ঢাকা কার্যালয়ের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুআকি কাতাওকা।