ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রাজধানীর বাজারে শীতের সবজি এলেও চড়া দামে অস্বস্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন সবজির দেখা মিললেও চড়া দাম ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অধিকাংশ সবজির দর কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এর মধ্যে ঝিঙা, বেগুন, কাঁকরোল, শিম ও টমেটোর মতো সবজিগুলো ১০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীত এলে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা, কিন্তু এবার দেখছি উল্টো চিত্র।

বাজারে আসা শীতের নতুন আলুর দাম নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

প্রতি কেজি নতুন আলু ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন।

তার ভাষ্যমতে, বাজারে মৌসুমের শুরুতে নতুন সবজি বা পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে ক্রেতাদের ক্ষোভ ও হতাশা কাটছে না। সিদ্দীকুর রহমান নামের এক ক্রেতা জানান, গণমাধ্যমে দেখেছেন ঢাকার বাইরে অনেক স্থানে সবজি পানির দরে বিক্রি হলেও এখানে ভিন্ন চিত্র। ৭০-৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ। সবজি ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, টেলিভিশনে দেখি, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা ও গোল বেগুন ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সাধারণ টমেটো ১২০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিছুটা স্বস্তিতে পেঁপে (৩০ টাকা) ও মিষ্টিকুমড়া (৪০ টাকা) কিনতে পারলেও মরিচের দাম রয়েছে ১৪০ টাকা কেজি।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও উচ্চমূল্যের প্রভাব স্পষ্ট। মাছ বিক্রেতা মোজাম্মেল হক জানান, সাগরের মাছ সবসময়ই চড়া দামে কেনাবেচা হয় এবং হাজারের নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া দুষ্কর। বড় আকারের কাতল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি শিং মাছের কেজি ১০০০ টাকা এবং বড় চিংড়ির দাম ১৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে, বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজির হিসাবে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চড়া দাম দেখা গেছে ইলিশের ক্ষেত্রে। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, চাষের মাছের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দামে পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা ও চাষের শিং মাছ ৪৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্রেতা আজাদ রহমানের মতে, অন্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে দাম কিছুটা বেশি হলেও এখানে মাছ টাটকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, বায়লা ৫৫০ টাকা।

মাংস ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামের চিত্র দেখা গেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীর বাজারে শীতের সবজি এলেও চড়া দামে অস্বস্তি

আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নতুন সবজির দেখা মিললেও চড়া দাম ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অধিকাংশ সবজির দর কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এর মধ্যে ঝিঙা, বেগুন, কাঁকরোল, শিম ও টমেটোর মতো সবজিগুলো ১০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীত এলে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা, কিন্তু এবার দেখছি উল্টো চিত্র।

বাজারে আসা শীতের নতুন আলুর দাম নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

প্রতি কেজি নতুন আলু ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন।

তার ভাষ্যমতে, বাজারে মৌসুমের শুরুতে নতুন সবজি বা পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে ক্রেতাদের ক্ষোভ ও হতাশা কাটছে না। সিদ্দীকুর রহমান নামের এক ক্রেতা জানান, গণমাধ্যমে দেখেছেন ঢাকার বাইরে অনেক স্থানে সবজি পানির দরে বিক্রি হলেও এখানে ভিন্ন চিত্র। ৭০-৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ। সবজি ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, টেলিভিশনে দেখি, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা ও গোল বেগুন ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সাধারণ টমেটো ১২০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিছুটা স্বস্তিতে পেঁপে (৩০ টাকা) ও মিষ্টিকুমড়া (৪০ টাকা) কিনতে পারলেও মরিচের দাম রয়েছে ১৪০ টাকা কেজি।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও উচ্চমূল্যের প্রভাব স্পষ্ট। মাছ বিক্রেতা মোজাম্মেল হক জানান, সাগরের মাছ সবসময়ই চড়া দামে কেনাবেচা হয় এবং হাজারের নিচে তেমন কোনো মাছ পাওয়া দুষ্কর। বড় আকারের কাতল মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি শিং মাছের কেজি ১০০০ টাকা এবং বড় চিংড়ির দাম ১৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে, বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজির হিসাবে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চড়া দাম দেখা গেছে ইলিশের ক্ষেত্রে। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, চাষের মাছের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দামে পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা ও চাষের শিং মাছ ৪৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্রেতা আজাদ রহমানের মতে, অন্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে দাম কিছুটা বেশি হলেও এখানে মাছ টাটকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, বায়লা ৫৫০ টাকা।

মাংস ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দামের চিত্র দেখা গেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে।