মিরপুরে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ: দাঙ্গা দমনের যান ও জলকামান মোতায়েন
- আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুরে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘাতের পর আজ সোমবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গত রোববারের ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মিরপুরে শ্রমিকদের নতুন করে বড় কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন এনে রাখা হয়েছে। সকাল থেকেই মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের কড়া নজরদারিতে থাকতে দেখা গেছে এবং তাঁরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন। আজ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে শ্রমিকেরাও বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
ফেসবুক পোস্ট ও নাশকতার তদন্ত
মিরপুরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লাগানোর বিষয়টি প্রচার করার অভিযোগে সম্প্রতি একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আরও ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ডেমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকালের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া শনিবার ও রোববার বিভিন্ন স্থানে যাঁরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানোর কথা জানিয়ে ‘ফেসবুকে পোস্ট’, আটক ১।
ডিএমপি যুগ্ম কমিশনারের বক্তব্য
মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গতকালের ঘটনায় শুধু পোশাকশ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন এমন নয়; তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি পেশাদার অপরাধীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আইন অমান্য করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।
পুলিশের সকল সদস্য যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।
সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
- শনিবার সকাল থেকে পোশাকশ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
- রোববার সকাল আটটার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে অবস্থান নেন, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
- বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
- দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
- রোববার মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
- সহিংসতার কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়।
পরিসংখ্যান ও অন্যান্য তথ্য অনুযায়ী, সরকার সম্প্রতি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শনিবারও মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান চলাচল নির্বিঘ্ন দেখা গেছে। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
























