ড. ইউনূসকে হেনস্তা প্রসঙ্গে যা বললেন সিদ্দিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। নিউ ইয়র্কের টাইম টেলিভিশনের একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে এবং আমার মনে হয় এটি কেবল শুরু। যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের মঙ্গল না চাওয়া হবে, ততক্ষণ সারা পৃথিবীতেই এমন পরিস্থিতি চলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, ড. ইউনূসের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজে দায়ী। নোবেল বিজয়ী হওয়ার কারণে নয়, বরং গত দুই বছরে তিনি যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, তার ফল হিসেবেই তাকে অভিনন্দন জানানোর মতো পরিস্থিতি তিনি আর রাখেনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এই নেতা বলেন, ড. ইউনূস অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন, বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার সময়কালে এক লাখেরও বেশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে। এই সেই ব্যক্তি, যার ওপর আজকে ঘটনাটি ঘটেছে, নট নোবেল লরিয়েট, সারা পৃথিবীতে যাকে নিয়ে আমরা অনেকে গর্ব করি, তাকে না, ওই ব্যক্তিটি—যিনি এই কাজগুলো করেছেন।’।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় হাজারের মতো পুলিশ সদস্য হত্যা এবং তাদের ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও সিদ্দিকুর রহমান উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি রাখা এবং দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পেছনেও ড. ইউনূসের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তার মতে, ড. ইউনূস যে সব কাজ করেছেন, তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আজ তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাদেরকে ইনডেমনিটি দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি দাবি করেন, বাংলাদেশ এখন ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সফর বা এ জাতীয় কর্মসূচির সময় যারা সফরসঙ্গী হিসেবে আসেন, তাদের সাবধান থাকা উচিত। তার নিজের দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তার নেই। যারা স্বজন হারিয়েছেন বা ব্যবসায়িক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তারা যেখানেই ড. ইউনূসকে পাবেন সেখানেই নিজেদের আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি নোবেল বিজয়ীকে অপমান করার বিষয় নয়, বরং ড. ইউনূসের কৃতকর্মের ফলাফল। তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব যখন আসেন, তার আগেও আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম যে—যারা তার সফরসঙ্গী হিসেবে আসবেন এখানে, সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরা করবেন।
টকশোতে সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, ড. ইউনূসকে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছে, যার মধ্যে পুলিশ হত্যা ও অসাংবিধানিক সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি। তিনি আইনের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আইনের সীমার ভেতরেই প্রতিবাদ করার কথা জানিয়েছেন। ড. ইউনূসকে কোনো শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি, তবে এটি একটি মানসিক চাপ বা বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা এই দেশটাকে ধ্বংস ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের সবারই এমন পরিণতি হতে পারে।
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সেই সময়ে কী হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে, ৫ আগস্টের আগে যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তা তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। তোফায়েল আহমেদের মতো ব্যক্তির জানাজা সংসদ ভবনে করতে না দেওয়ার বিষয়টিসহ অসংখ্য ক্ষোভ তাদের ভেতরে রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলকে রাজনীতি করার অধিকার না দেওয়া হবে এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এসব ঘটনার শেষ হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

























