ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার ডাক ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে সংযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির রূপরেখা নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলন। আগারগাঁয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের যৌথ উদ্যোক্তা ছিল সরকার ও চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, দুই বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান ও মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ। এছাড়া নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়, বরং এটি একটি উদ্ভাবনমুখী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার। এটি বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনমুখী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি জানান, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। হুয়াওয়ের প্রেসিডেন্ট জেসন উ জানান, দেশটির ডিজিটাল অবকাঠামো ও দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে হুয়াওয়ে সরকার ও শিল্প খাতের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, গত বছর স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে ব্যাটারি উৎপাদন শুরুর পর এখন নীতিগত সহায়তা পেলে দেশে আরও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম উৎপাদন সম্ভব হবে। সম্মেলন উপলক্ষে স্থাপিত এক্সপেরিয়েন্স জোনে স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল পাওয়ার ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রদর্শন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল এক্সপেরিয়েন্স জোন। এখানে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, স্মার্ট ওয়াচ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোলার সিস্টেম, স্মার্ট ক্লাসরুম, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, ডিজিটাল পাওয়ার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে তিনটি পৃথক প্যানেল আলোচনায় প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ-উল-বারী, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী ও সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. তৈয়বুর রহমান আলোচনার সঞ্চালনা করেন। প্রথম প্যানেলে আলোচকরা ডিজিটাল সংযোগকে কেবল ইন্টারনেট হিসেবে না দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংযোগের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ডিজিটাল সংযোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করে এর মাধ্যমে মানুষ কতটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হচ্ছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা মানুষের কাছে কতটা সহজে পৌঁছাচ্ছে, তার ওপর।

দ্বিতীয় প্যানেলে শিল্প খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোকপাত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রযুক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ের পাশাপাশি ফাইবার নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ও গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হয়। তৃতীয় প্যানেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে যে, এআইয়ের সুফল পেতে ৫জি সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি এবং বাংলাভিত্তিক এআই মডেল তৈরি জরুরি। বর্তমানে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকলেও ৫জি পরিসর সীমিত। এছাড়া বৈশ্বিক পরিসরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের হার মাত্র ৫ শতাংশ, যেখানে উচ্চ আয়ের দেশে এই হার ২৫ শতাংশ। পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তব পর্যায়ে চালু করতে নেতৃত্ব, অর্থায়ন ও দক্ষ কর্মীর ঘাটতি দূর করা জরুরি বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

এআই মডেলের নিরাপত্তায় নিজস্ব সার্ভার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। প্যানেল আলোচনায় টেলিটক, বিটিসিএল, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা এআইয়ের ফলে কর্মসংস্থানের ধরনে যে পরিবর্তন আসবে, তার প্রস্তুতি নেওয়ারও পরামর্শ দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার ডাক ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে

আপডেট সময় : ০৮:১১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে সংযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির রূপরেখা নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলন। আগারগাঁয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের যৌথ উদ্যোক্তা ছিল সরকার ও চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, দুই বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান ও মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ। এছাড়া নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্লোগান নয়, বরং এটি একটি উদ্ভাবনমুখী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার। এটি বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনমুখী ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি জানান, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। হুয়াওয়ের প্রেসিডেন্ট জেসন উ জানান, দেশটির ডিজিটাল অবকাঠামো ও দক্ষ প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে হুয়াওয়ে সরকার ও শিল্প খাতের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, গত বছর স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে ব্যাটারি উৎপাদন শুরুর পর এখন নীতিগত সহায়তা পেলে দেশে আরও টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম উৎপাদন সম্ভব হবে। সম্মেলন উপলক্ষে স্থাপিত এক্সপেরিয়েন্স জোনে স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল পাওয়ার ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রদর্শন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল এক্সপেরিয়েন্স জোন। এখানে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, স্মার্ট ওয়াচ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোলার সিস্টেম, স্মার্ট ক্লাসরুম, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, ডিজিটাল পাওয়ার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে তিনটি পৃথক প্যানেল আলোচনায় প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ-উল-বারী, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী ও সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. তৈয়বুর রহমান আলোচনার সঞ্চালনা করেন। প্রথম প্যানেলে আলোচকরা ডিজিটাল সংযোগকে কেবল ইন্টারনেট হিসেবে না দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংযোগের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ডিজিটাল সংযোগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করে এর মাধ্যমে মানুষ কতটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হচ্ছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা মানুষের কাছে কতটা সহজে পৌঁছাচ্ছে, তার ওপর।

দ্বিতীয় প্যানেলে শিল্প খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোকপাত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রযুক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা দূর করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ের পাশাপাশি ফাইবার নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ও গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হয়। তৃতীয় প্যানেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে যে, এআইয়ের সুফল পেতে ৫জি সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি এবং বাংলাভিত্তিক এআই মডেল তৈরি জরুরি। বর্তমানে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় থাকলেও ৫জি পরিসর সীমিত। এছাড়া বৈশ্বিক পরিসরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের হার মাত্র ৫ শতাংশ, যেখানে উচ্চ আয়ের দেশে এই হার ২৫ শতাংশ। পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তব পর্যায়ে চালু করতে নেতৃত্ব, অর্থায়ন ও দক্ষ কর্মীর ঘাটতি দূর করা জরুরি বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।

এআই মডেলের নিরাপত্তায় নিজস্ব সার্ভার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। প্যানেল আলোচনায় টেলিটক, বিটিসিএল, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা এআইয়ের ফলে কর্মসংস্থানের ধরনে যে পরিবর্তন আসবে, তার প্রস্তুতি নেওয়ারও পরামর্শ দেন।