চীনা যন্ত্রাংশে হুতিদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা
- আপডেট সময় : ১২:৫১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বর্তমানে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন এক কৌশলে এগোচ্ছে। তারা ইরানের প্রযুক্তিগত নকশা অনুসরণ করে চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে উন্নত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এই অস্ত্র তৈরিতে সফল হলে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের গভীরে এবং ইসরাইলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ তথ্য উঠে এসেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
এই প্রতিবেদনটি মূলত অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সিএআরের বিশ্লেষণে গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের আটক করা দুটি চালানের নথিপত্র ও সরঞ্জাম যাচাই করা হয়েছে। এসব চালানে অন্যান্য পণ্যের আড়ালে কৌশলে ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও মূল কাঠামো তৈরির ধাতব যন্ত্রাংশ, বিশেষায়িত পাখনা এবং কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট মোটরের উপাদান আনা হচ্ছিল। জব্দ করা সরঞ্জামের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহৃত তাপসহনশীল উপাদান ও পরীক্ষার যন্ত্রও ছিল। তদন্তে চীনের একটি নির্ভুল ধাতব যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যারা মূলত মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বিশেষ যন্ত্র তৈরি করে থাকে। তবে প্রতিবেদনে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যবহারের উপযোগী বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ তৈরির দক্ষতার কথা প্রচার করে।
প্রস্তাবিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের ‘খাইবার শেকান’ নামের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রথম ২০২২ সালে তেহরানে প্রদর্শিত হয়েছিল। সিএআরের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজ জানিয়েছেন, এসব যন্ত্রাংশ আমদানির প্রবণতা নির্দেশ করে যে, হুতিরা হয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে, নয়তো উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সফলভাবে তৈরি করা সম্ভব হলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১২০০ মাইল বা ১৯৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৬০০০ মাইল বা ৯৬৫৬ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে উদ্বেগের মূল জায়গা হলো এর গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা। খাইবার শেকান সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এমনকি এর কিছু সংস্করণে ওয়ারহেড বহনকারী অংশ মূল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের অবস্থান সমন্বয় করতে সক্ষম। এটি সাধারণ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি ওজনের বিস্ফোরক বহনে সক্ষম।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল হুতিরা এখন নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকছে। যদিও চীন দাবি করেছে যে, তারা ইয়েমেনের ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে, তবুও হুতিদের কাছে জব্দ করা অস্ত্রের বিভিন্ন চালানে চীনা প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে। এটি মূলত দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি বা যেসব উপাদান বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে চীনা উৎসের যন্ত্রাংশের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এমন প্রশ্ন সামনে এনেছে—দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছানো ঠেকাতে বিদ্যমান নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কতটা কার্যকর।
























