ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ধ্বংসের দাবি জোটের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের দুটি ভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছুড়ে মারা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সম্প্রতি ইয়েমেন সীমান্তে দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুনরায় তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার জোট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সামরিক সাফল্যের ঘোষণা দেওয়া হয়।

হামলার বিবরণ ও সৌদি জোটের প্রতিক্রিয়া

সৌদি জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কৌশলগত ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে তিনটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে মোট চারটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব হামলা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ করে দেয়।

  • ইস্টার্ন প্রভিন্স অভিমুখে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুতিরা।
  • সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে পাঠানো হয় চারটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন।
  • সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সব কটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করে।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমাদের কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আগাম শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এই ঘটনার পর যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কৌশলগত পটভূমি

অপরদিকে হুতিরা সৌদি ভূমিতে অন্তত ৭টি পৃথক হামলার দাবি করেছে এবং মক্কা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল হুতিরা। সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি সামরিক জোট নিজেদের হামলা আরও জোরদার করে। এই বৈশ্বিক নৌপথটি উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুতি ও সৌদি জোটের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি জোট ও রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের লড়াই অনেকটাই শান্ত ছিল। তবে সম্প্রতি সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ধ্বংসের দাবি জোটের

আপডেট সময় : ০৩:১৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের দুটি ভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছুড়ে মারা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সম্প্রতি ইয়েমেন সীমান্তে দুই পক্ষের সংঘর্ষ পুনরায় তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার জোট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সামরিক সাফল্যের ঘোষণা দেওয়া হয়।

হামলার বিবরণ ও সৌদি জোটের প্রতিক্রিয়া

সৌদি জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কৌশলগত ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে তিনটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে মোট চারটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব হামলা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ করে দেয়।

  • ইস্টার্ন প্রভিন্স অভিমুখে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুতিরা।
  • সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে পাঠানো হয় চারটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন।
  • সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সব কটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করে।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমাদের কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়াদের ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আগাম শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এই ঘটনার পর যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়।

আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কৌশলগত পটভূমি

অপরদিকে হুতিরা সৌদি ভূমিতে অন্তত ৭টি পৃথক হামলার দাবি করেছে এবং মক্কা এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল হুতিরা। সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি সামরিক জোট নিজেদের হামলা আরও জোরদার করে। এই বৈশ্বিক নৌপথটি উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুতি ও সৌদি জোটের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি জোট ও রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিদের লড়াই অনেকটাই শান্ত ছিল। তবে সম্প্রতি সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।