সৌদিতে হুতিদের হামলা অব্যাহত, আতঙ্কে যুবরাজ সালমানের স্থানান্তর
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালিয়ে দেশটি অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সর্বশেষ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার পর বিমানবন্দর ও অন্যান্য তেল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। তাদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতির মুখে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বেশ কিছুদিন ধরে তাকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় রাজপরিবারে ভীতি ও অস্থিরতা কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা যে হতাশ অবস্থায় আছে, তা ধরা পড়ে একটি বিষয়ে। ফলে খবরটাকে বিশেষভাবে সত্য বলেই মনে হচ্ছে। হুতিরা বলেছে, যেসব স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। হুতিরা বলেছে, গত মাসে নতুন করে শুরু হওয়া ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব সরকারপন্থি বাহিনীকে সমর্থন দেয়ায় তারা এর প্রতিশোধ নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হুতিদের আক্রমণাত্মক তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া, মঙ্গলবার রাতে ধাহরান শহরে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই হামলায় স্থাপনাটির কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এটিকে সীমিত অগ্নিকাণ্ড বলে দাবি করে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার কথা জানায়। বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। দুটি সূত্র জানিয়েছেন, আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছিল। পাশাপাশি কানকথা ছড়িয়ে পড়েছে তিনি এখন কোথায়।
রাজধানী রিয়াদে বুধবার সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়। তবে এদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যার কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। হুতি বিদ্রোহীদের এই ধারাবাহিক আক্রমণ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে পরিকল্পনা তিনি গ্রহণ করেছিলেন, চলমান সংঘাত তা চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার জেরে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
























