নির্জন হাটে একা ইউসুফ, ব্যবসার টানে আজও টিকে আছেন
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
পটিয়া সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত পুরোনো থানার হাটে এখন আর আগের মতো কর্মচঞ্চল পরিবেশ নেই। ৯ অক্টোবর দুপুরে সেই হাটে দেখা মেলে ৭০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফের। তাঁর পসরায় ছিল মাত্র নয়টি কুমড়া, তিন কেজি কাঁচা মরিচ, সামান্য পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মসুর ডাল। একসময় অর্ধশতাধিক বিক্রেতার পদচারণায় মুখর থাকা এই হাটটিতে এখন তিনিই একমাত্র বিক্রেতা হিসেবে টিকে আছেন।
বয়স ও অসুস্থতার কারণে হাঁটাচলায় কষ্ট হলেও ইউসুফ ব্যবসা ছাড়েননি। তাঁর দুই ছেলে চাকরিজীবী এবং মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, তারপরও দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর হাটের জন্য কোনো বাড়তি খরচ দিতে না হওয়ায় তিনি এখনো নিয়মিত দোকান নিয়ে বসেন। প্রতিদিন দুপুরের দিকে বেরিয়ে স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে পণ্য কেনেন এবং আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করেন। দিনে পাঁচ-ছয় হাজার টাকার পণ্য বিক্রি শেষে খরচ বাদে তাঁর হাতে থাকে প্রায় হাজারখানেক টাকা।
এই হাটের বিক্রেতা কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, ১৯৮৫ সালে হাটটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এর একটি অংশ চলে যায় রেলস্টেশনের পাশে, যা এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে বেশ জমজমাট। অন্যদিকে, কলেজ সংলগ্ন পুরোনো থানার হাটটি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে থাকে। প্রবীণ বাসিন্দা নুরুচ্ছফা মিয়ার মতে, রেলস্টেশনের কাছের হাটটি বড় হওয়ার পাশাপাশি সেখানে পণ্য ও বিক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় ক্রেতারা সেখানেই ভিড় করেন।
২০২০ সালের করোনা মহামারির পর থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় এবং ইউসুফই শেষ ব্যক্তি হিসেবে এই স্থানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। একসময় কয়েক ডজন বিক্রেতার আনাগোনা থাকা এই হাটটি এখন মূলত তাঁর উপস্থিতিতেই টিকে আছে। নতুন হাটের প্রসার এবং অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে পুরোনো এই বাজারটি এখন অনেকটাই নির্জন হয়ে পড়েছে, কিন্তু পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ইউসুফ এখনো তাঁর পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন প্রতিদিন।


























