ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির মাঝে ফের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট এখনো কাটেনি। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানোর পরেও গ্রাহকদের কিনতে হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি মূল্যে। কিছু এলাকায় পুরোনো সিলিন্ডার ফেরত না নেওয়ায় নতুন করে বাড়তি খরচে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এলপিজির দাম আরও এক দফা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় মজুত করা। এতে সংকট তৈরি হলে আগাম বেড়ে যায় দাম। তিনটি এলপিজি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, রান্নার পাশাপাশি শিল্প ও পরিবহন খাতে চাহিদা বাড়ছে। গ্রাহকের কাছে একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে চারটি সিলিন্ডার লাগে। এতে ১২ কেজি করে ৮৩ লাখ সিলিন্ডার পায় গ্রাহক। অথচ আরও অন্তত ৬০ লাখ সিলিন্ডার সক্রিয় থাকলে মাসে গ্রাহকের কাছে ১৫ লাখ সিলিন্ডারের সরবরাহ বাড়ত।

অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের তুলনায় রাজধানী ঢাকায় দামের অস্থিরতা বেশি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু দেশে দাম সমন্বয় করা হয় ৪ অক্টোবর। তাঁদের এসব দাবি আমলে নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি ডেকেছে বিইআরসি।

কারওয়ান বাজারের চা বিক্রেতা মো. শাহেদ জানান, সম্প্রতি তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছেন। একই ভোগান্তির কথা জানান মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সুরমা বেগম। তিনি গত শুক্রবার ২ হাজার ৩০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনেছেন। অথচ একই দিনে ভোলার এক স্বজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, সেখানে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যদিও তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলায় একই দিনে তাঁর এক স্বজন এলপিজি কিনেছেন ২ হাজার ১০০ টাকায়। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা—সব পর্যায়েই মজুত করা হয়েছে।

আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব ও বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি আমদানির সক্ষমতা সম্পন্ন ২৩টি কোম্পানি রয়েছে। তবে আগস্টে ১৩টি এবং সেপ্টেম্বরে মাত্র ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান অন্যদের কাছ থেকে কিনে সরবরাহ বজায় রাখলেও অনেকের সরবরাহ নামমাত্র। ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তাই আপাতত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ করছে না।

বিশ্লেষকদের দাবি, একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি খাত থেকে এক মাসেই ৬০০ কোটি টাকার বেশি বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, কয়েকটি কোম্পানি মজুত করে এই সংকট তৈরি করেছে। তিনি এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন আমদানিকারকরা। ফ্রেশ এলপি গ্যাসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা আশ্বস্ত করেছেন যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং আগামী মাস থেকে সংকট থাকবে না। আমদানি বন্ধ রাখা কোম্পানিগুলোর দাবি, ব্যাংকিং জটিলতা ও শতভাগ টাকা জমার বাধ্যবাধকতায় তারা ঋণপত্র খুলতে পারছে না। আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন ও সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। রান্নার গ্যাসে মাসে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি। ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় লেনদেনেও জটিলতায় আছে তারা। ব্যাংকে যাদের দায় বেশি, তাদের তো ব্যাংক ঝামেলা করবেই। লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, যারা আমদানি করতে পারছে না, তাদের জন্য ঋণপত্র সহজ করতে জ্বালানি বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, দাম ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনার পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে যত দিন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঠিক না হবে, তত দিন বাজার স্থিতিশীল করা কঠিন।

খাত-সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, এলপিজি বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ সিলিন্ডার থাকলেও সক্রিয় ১০টি কোম্পানির সিলিন্ডার আছে ৩ কোটি ৭ লাখ। অর্থাৎ ৪২ শতাংশ সিলিন্ডার নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। এ ছাড়া সব কোম্পানির মোট মজুত সক্ষমতা ১ লাখ ৮০ হাজার টন হলেও বর্তমানে তা পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, প্রায় আড়াই কোটি সিলিন্ডার অলস পড়ে থাকা বড় একটি সমস্যা, যা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা জরুরি। যার জন্য দরকার ৩ কোটি ৩২ লাখ সিলিন্ডার, যা এখন নিয়মিত পাওয়া যায় না। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানির সক্ষমতা ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ বাকিরা আমদানি না করায় ৪৭ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীদের সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি সম্ভব নয়। তারা প্রতি সিলিন্ডারে ৮০ টাকা কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে সংকট এড়াতে অনেক গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ-চালিত চুলার মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যে অন্যান্য খরচও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন পরিবেশক ও আমদানিকারকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির মাঝে ফের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়

আপডেট সময় : ০২:৫৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট এখনো কাটেনি। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানোর পরেও গ্রাহকদের কিনতে হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি মূল্যে। কিছু এলাকায় পুরোনো সিলিন্ডার ফেরত না নেওয়ায় নতুন করে বাড়তি খরচে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এলপিজির দাম আরও এক দফা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় মজুত করা। এতে সংকট তৈরি হলে আগাম বেড়ে যায় দাম। তিনটি এলপিজি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, রান্নার পাশাপাশি শিল্প ও পরিবহন খাতে চাহিদা বাড়ছে। গ্রাহকের কাছে একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে চারটি সিলিন্ডার লাগে। এতে ১২ কেজি করে ৮৩ লাখ সিলিন্ডার পায় গ্রাহক। অথচ আরও অন্তত ৬০ লাখ সিলিন্ডার সক্রিয় থাকলে মাসে গ্রাহকের কাছে ১৫ লাখ সিলিন্ডারের সরবরাহ বাড়ত।

অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের তুলনায় রাজধানী ঢাকায় দামের অস্থিরতা বেশি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু দেশে দাম সমন্বয় করা হয় ৪ অক্টোবর। তাঁদের এসব দাবি আমলে নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি ডেকেছে বিইআরসি।

কারওয়ান বাজারের চা বিক্রেতা মো. শাহেদ জানান, সম্প্রতি তিনি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছেন। একই ভোগান্তির কথা জানান মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সুরমা বেগম। তিনি গত শুক্রবার ২ হাজার ৩০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনেছেন। অথচ একই দিনে ভোলার এক স্বজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, সেখানে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যদিও তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলায় একই দিনে তাঁর এক স্বজন এলপিজি কিনেছেন ২ হাজার ১০০ টাকায়। আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা—সব পর্যায়েই মজুত করা হয়েছে।

আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব ও বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজি আমদানির সক্ষমতা সম্পন্ন ২৩টি কোম্পানি রয়েছে। তবে আগস্টে ১৩টি এবং সেপ্টেম্বরে মাত্র ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান অন্যদের কাছ থেকে কিনে সরবরাহ বজায় রাখলেও অনেকের সরবরাহ নামমাত্র। ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তাই আপাতত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ করছে না।

বিশ্লেষকদের দাবি, একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজি খাত থেকে এক মাসেই ৬০০ কোটি টাকার বেশি বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, কয়েকটি কোম্পানি মজুত করে এই সংকট তৈরি করেছে। তিনি এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে ভিন্ন কথা বলছেন আমদানিকারকরা। ফ্রেশ এলপি গ্যাসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা আশ্বস্ত করেছেন যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং আগামী মাস থেকে সংকট থাকবে না। আমদানি বন্ধ রাখা কোম্পানিগুলোর দাবি, ব্যাংকিং জটিলতা ও শতভাগ টাকা জমার বাধ্যবাধকতায় তারা ঋণপত্র খুলতে পারছে না। আগস্ট মাসে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন ও সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। রান্নার গ্যাসে মাসে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি। ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় লেনদেনেও জটিলতায় আছে তারা। ব্যাংকে যাদের দায় বেশি, তাদের তো ব্যাংক ঝামেলা করবেই। লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, যারা আমদানি করতে পারছে না, তাদের জন্য ঋণপত্র সহজ করতে জ্বালানি বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, দাম ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনার পর কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে যত দিন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঠিক না হবে, তত দিন বাজার স্থিতিশীল করা কঠিন।

খাত-সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, এলপিজি বাজারের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ সিলিন্ডার থাকলেও সক্রিয় ১০টি কোম্পানির সিলিন্ডার আছে ৩ কোটি ৭ লাখ। অর্থাৎ ৪২ শতাংশ সিলিন্ডার নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। এ ছাড়া সব কোম্পানির মোট মজুত সক্ষমতা ১ লাখ ৮০ হাজার টন হলেও বর্তমানে তা পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, প্রায় আড়াই কোটি সিলিন্ডার অলস পড়ে থাকা বড় একটি সমস্যা, যা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা জরুরি। যার জন্য দরকার ৩ কোটি ৩২ লাখ সিলিন্ডার, যা এখন নিয়মিত পাওয়া যায় না। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানির সক্ষমতা ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ বাকিরা আমদানি না করায় ৪৭ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না।

ব্যবসায়ীদের সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি সম্ভব নয়। তারা প্রতি সিলিন্ডারে ৮০ টাকা কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে সংকট এড়াতে অনেক গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ-চালিত চুলার মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যে অন্যান্য খরচও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন পরিবেশক ও আমদানিকারকেরা।