ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ক্রিপ্টো প্রতারণা: আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ সেলসিয়াসের সাবেক সিইও মাশিনস্কি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সেলসিয়াস নেটওয়ার্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্স মাশিনস্কির ওপর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস গত ৮ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, মাশিনস্কিকে নিউইয়র্কের আর্থিক খাত থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় এবং ক্রিপ্টো বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। নিউইয়র্কের একজন বাসিন্দা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের জন্য নিজের দুটি সম্পত্তি বন্ধক রেখেছিলেন। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, মাশিনস্কি সেলসিয়াসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্রাহক সংখ্যা এবং বিনিয়োগ কৌশলের বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন। তার প্ররোচনায় বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ও ডিজিটাল সম্পদ সেলসিয়াসে জমা রাখতে উৎসাহিত হন। শুধু নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেই ২৬ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মাশিনস্কি বারবার দাবি করেছিলেন যে, সেলসিয়াস সাধারণ ব্যাংকগুলোর চেয়েও অধিক নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের মতো কোনো নিয়ন্ত্রক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ছিল না। এই প্রতারণার কারণে এক প্রতিবন্ধী সাবেক সেনাসদস্যের মতো বহু মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থ হারিয়েছেন; ওই ব্যক্তি এক দশকের জমানো ৩৬ হাজার ডলার খুইয়েছেন। অন্যদিকে এক প্রতিবন্ধী সাবেক সেনাসদস্য প্রায় এক দশক ধরে সঞ্চয় করা ৩৬ হাজার ডলার হারান। অথচ প্রতিষ্ঠানটি উচ্চঝুঁকির বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহার করে ক্ষতির মুখে পড়লেও সেই তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। গ্রাহকেরা সেখানে ডিজিটাল সম্পদ জমা রাখলে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। মাশিনস্কি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, জনসমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার চালাতেন। সেলসিয়াসের ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, ঝুঁকি, অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি এবং গ্রাহকের সম্পদের সুরক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই করার প্রয়োজনীয়তাও এ ঘটনা তুলে ধরেছে।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ২০২৩ সালে মাশিনস্কির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিল। আইনি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায়ের শর্ত সাপেক্ষে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। মাশিনস্কি যদি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক আরোপিত অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করার আদেশ পালনে ব্যর্থ হন, তবে তাকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া, নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ না করলে তাকে আরও ১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পাওনাদারদের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত শর্তে তিনি পূর্ণ ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ না করলে আরও ১ কোটি ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মাশিনস্কির বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই মামলায় তার ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সেলসিয়াস নেটওয়ার্ক বর্তমানে দেউলিয়া কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাওনাদারদের মধ্যে ৩৪০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এই পুরো আইনি প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক প্রতারণার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ক্রিপ্টো প্রতারণা: আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ সেলসিয়াসের সাবেক সিইও মাশিনস্কি

আপডেট সময় : ০২:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সেলসিয়াস নেটওয়ার্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্স মাশিনস্কির ওপর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস গত ৮ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, মাশিনস্কিকে নিউইয়র্কের আর্থিক খাত থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় এবং ক্রিপ্টো বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। নিউইয়র্কের একজন বাসিন্দা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের জন্য নিজের দুটি সম্পত্তি বন্ধক রেখেছিলেন। নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, মাশিনস্কি সেলসিয়াসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্রাহক সংখ্যা এবং বিনিয়োগ কৌশলের বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন। তার প্ররোচনায় বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ও ডিজিটাল সম্পদ সেলসিয়াসে জমা রাখতে উৎসাহিত হন। শুধু নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেই ২৬ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মাশিনস্কি বারবার দাবি করেছিলেন যে, সেলসিয়াস সাধারণ ব্যাংকগুলোর চেয়েও অধিক নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের মতো কোনো নিয়ন্ত্রক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় ছিল না। এই প্রতারণার কারণে এক প্রতিবন্ধী সাবেক সেনাসদস্যের মতো বহু মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থ হারিয়েছেন; ওই ব্যক্তি এক দশকের জমানো ৩৬ হাজার ডলার খুইয়েছেন। অন্যদিকে এক প্রতিবন্ধী সাবেক সেনাসদস্য প্রায় এক দশক ধরে সঞ্চয় করা ৩৬ হাজার ডলার হারান। অথচ প্রতিষ্ঠানটি উচ্চঝুঁকির বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহার করে ক্ষতির মুখে পড়লেও সেই তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। গ্রাহকেরা সেখানে ডিজিটাল সম্পদ জমা রাখলে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। মাশিনস্কি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, জনসমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার চালাতেন। সেলসিয়াসের ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, ঝুঁকি, অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি এবং গ্রাহকের সম্পদের সুরক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই করার প্রয়োজনীয়তাও এ ঘটনা তুলে ধরেছে।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ২০২৩ সালে মাশিনস্কির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিল। আইনি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায়ের শর্ত সাপেক্ষে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। মাশিনস্কি যদি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক আরোপিত অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করার আদেশ পালনে ব্যর্থ হন, তবে তাকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া, নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ না করলে তাকে আরও ১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পাওনাদারদের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত শর্তে তিনি পূর্ণ ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ না করলে আরও ১ কোটি ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে মাশিনস্কির বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই মামলায় তার ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সেলসিয়াস নেটওয়ার্ক বর্তমানে দেউলিয়া কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাওনাদারদের মধ্যে ৩৪০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এই পুরো আইনি প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক প্রতারণার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।