আগামী ১৫ বছরে কর্মসংস্থানের বিশাল ঘাটতির আশঙ্কা বিশ্বব্যাংকের
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কর্মবাজারে প্রায় ১২০ কোটি নতুন তরুণ যুক্ত হতে যাচ্ছেন। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় এই বিশাল সংখ্যক তরুণের জন্য মাত্র ৪০ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ১৬ অক্টোবর বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। সেই হিসাব অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের ঘাটতি প্রায় ৮০ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, এই পরিসংখ্যান কোনো চূড়ান্ত পরিণতি বা অনিবার্য ভবিষ্যৎ নয়।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ বার্ষিক সভায় অজয় বাঙ্গা বলেন, কর্মসংস্থান কেবল সংখ্যার বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি পুঁজি, জনকল্যাণমূলক সংস্থার সহায়তা এবং প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পরবর্তী প্রজন্মের চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন উদ্যোগের গতি ও পরিধি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। আজ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে ভাষণের অনুলিপি পাঠানো হয়।
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সংঘাত, ঋণের ভার, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কমে আসা এবং জ্বালানি ও সারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন কঠিন সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশগুলোকে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সরকারি অর্থায়ন ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা চলমান রাখার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার সাথে সাথে বেসরকারি বিনিয়োগের ভূমিকা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার কর্মসূচির সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে অজয় বাঙ্গা জানান, প্রকল্প প্রস্তুতির সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাসে আনা হয়েছে। এক দশকে বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে। বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ২০২২ সালে যেখানে সংস্থাটি প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ করেছিল, গত বছর তা ১১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নসহ তাদের মোট অর্থায়নের পরিমাণ এখন ২৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বাণিজ্যিক পুঁজি আকর্ষণ করা এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব দেশে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) বিকাশ ঘটাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে। একইসাথে বড় বাজার ও ক্রেতাদের সাথে সংযোগ তৈরি এবং ব্যবসা সহজীকরণের নীতিমালা জরুরি। কর্মসংস্থান তৈরির ভিত্তি হিসেবে বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন, ডিজিটাল সংযোগ, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন অজয় বাঙ্গা। তবে এ প্রযুক্তির সুফল পেতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎ, ডিজিটাল সংযোগ এবং দক্ষ জনশক্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি আরও যোগ করেন, দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় অর্থ আটকে থাকা উন্নয়ন অর্থায়নের অন্যতম একটি সীমাবদ্ধতা। এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ও কার্যকর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


























