ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্তে বা সিভিতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (১৮ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এর একটিতে ডব্লিউএইচওতে নিয়োগ পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ আনা হয়। অন্যটিতে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে আবেদনের সময় পুতুল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট’ বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তিনি নিয়োগ পান বলে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই কর্মকাণ্ড চালান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নথি খোলা ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের স্বাভাবিক সুযোগ না দিয়েই চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়, যা রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে দুদকের দাবি। মামলার এজাহারে বলা হয়, সায়মা ২০২৩ সালে আবেদনের সময় বিএসএমএমইউতে শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা ম্যানুয়াল পর্যালোচনার কাজে অংশ নেওয়ার যে দাবি করেছিলেন, তা সত্য নয়। এছাড়া ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিনি অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যার জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার আড়ালে তিনি সিভিতে এসব মিথ্যা তথ্য যুক্ত করেন। দুদক জানিয়েছে, তার এই কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের

আপডেট সময় : ০৭:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে জীবনবৃত্তান্তে বা সিভিতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (১৮ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এর একটিতে ডব্লিউএইচওতে নিয়োগ পেতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ আনা হয়। অন্যটিতে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে আবেদনের সময় পুতুল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট’ বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তিনি নিয়োগ পান বলে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এছাড়া ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই কর্মকাণ্ড চালান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নথি খোলা ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের স্বাভাবিক সুযোগ না দিয়েই চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়, যা রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে দুদকের দাবি। মামলার এজাহারে বলা হয়, সায়মা ২০২৩ সালে আবেদনের সময় বিএসএমএমইউতে শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা ম্যানুয়াল পর্যালোচনার কাজে অংশ নেওয়ার যে দাবি করেছিলেন, তা সত্য নয়। এছাড়া ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিনি অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যার জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার আড়ালে তিনি সিভিতে এসব মিথ্যা তথ্য যুক্ত করেন। দুদক জানিয়েছে, তার এই কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়।