কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে চার সেনাসদস্য নিহত
- আপডেট সময় : ০১:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির চারজন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য আলবার্টার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স, বিশেষ হেলিকপ্টার এবং উড়োজাহাজ ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও এর কারণ এখনও জানা যায়নি। সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় সেনাসদস্যরা জীবন্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে যুদ্ধের মহড়া চালাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ওয়েনরাইটের স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ায় রোগীদের এডমন্টনসহ প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নিহত চার সেনাসদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং এবং প্রাইভেট হেইডেন লাইকেমার। আক্রান্তদের মধ্যে প্রিন্সেস প্যাট্রিশিয়া’স কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রির সদস্য এবং বেশ কয়েকজন রিজার্ভ সেনাসদস্য রয়েছেন। ঘটনাটি দেশটির শান্তিকালীন সময়ের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই দুর্ঘটনার বিষয়ে শোক প্রকাশ করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনাটিকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার সামরিক বাহিনীর জন্য অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ওয়েনরাইট কানাডার সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সাধারণত এখানে ৬৯০ জন সামরিক সদস্য ও ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী কর্মরত থাকেন। কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং তা কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলমান রয়েছে।
























