সৌদির সুরক্ষায় সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবের সুরক্ষায় সব ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে মিসর।
শনিবার প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, রিয়াদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে মিসর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা মিসরের নেই, তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে কায়রো নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে একটি জরুরি অধিবেশন তলব করা হয়েছে। আল-সিসি স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করা বা কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে নয়; বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষার প্রশ্ন।
এর আগে শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদসহ সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে তা ভূপাতিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের উৎক্ষেপণকেন্দ্রে পাল্টা হামলার ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনাসহ হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে দেশটি।
গত জুলাই মাস থেকে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বেড়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত সপ্তাহে সেখানে চালানো এক হামলায় ১৩ জন নিহত হন। এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারান। শুক্রবার হুথিরা এডেন বিমানবন্দরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলেও জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব হুথিদের এই উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইরান মদত দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, সংকটের সমাধান কেবল একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রিয়াদ ও দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া অনেক দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক করেছে এবং বিমানবন্দর ব্যবহারে বিধিনিষেধ দিয়েছে। একদিকে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সৌদি আরব হুথিবিরোধী ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
























