ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়া আগ্রহী: অর্থমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে দেখা দেওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও গ্যাসের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মোট ১৫০টি কূপ খনন করা এবং তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি আনতে পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব বড় বড় প্রকল্পে চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনোয়োগকারীরা উৎসাহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গ্যাস সংকট নিরসনে তিনটি থেকে চারটি নতুন এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সোমবার ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাংলাদেশে বিনিয়োগের চালিকাশক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ডাঙ্গা ও সাগরে অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান কাজ জোরদার করছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে ঢেলে সাজাতে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনসহ ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

জ্বালানি খাতে নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের একটি নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে সুবিশাল জাহাজ থেকে সরাসরি অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি খালাস করার আধুনিক টার্মিনাল এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি হাব তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাত অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগের সরকারের আমল থেকে চলে আসা বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থ পাচারের সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামোকে আরও বিস্তৃত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাড়িঘর ও কলকারখানার ছাদে প্যানেল বসাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হারের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ পরিবেশ সুন্দর করা ও ব্যবসার আনুষঙ্গিক খরচ কমাতে রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারে নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত স্থিতিশীল করার কৌশল হিসেবে এনবিআর পুনর্গঠনের বিস্তারিত উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিরসন ও দুর্নীতি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়ন—এই দুটি পৃথক অংশে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এর উদ্দেশ্য হলো নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়া আগ্রহী: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৩৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশে দেখা দেওয়া তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও গ্যাসের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মোট ১৫০টি কূপ খনন করা এবং তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি আনতে পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব বড় বড় প্রকল্পে চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনোয়োগকারীরা উৎসাহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গ্যাস সংকট নিরসনে তিনটি থেকে চারটি নতুন এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সোমবার ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বাংলাদেশে বিনিয়োগের চালিকাশক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ডাঙ্গা ও সাগরে অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধান কাজ জোরদার করছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে ঢেলে সাজাতে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনসহ ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

জ্বালানি খাতে নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের একটি নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে সুবিশাল জাহাজ থেকে সরাসরি অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি খালাস করার আধুনিক টার্মিনাল এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি হাব তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাত অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগের সরকারের আমল থেকে চলে আসা বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থ পাচারের সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামোকে আরও বিস্তৃত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাড়িঘর ও কলকারখানার ছাদে প্যানেল বসাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হারের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ পরিবেশ সুন্দর করা ও ব্যবসার আনুষঙ্গিক খরচ কমাতে রাজস্ব প্রশাসন, ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজারে নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত স্থিতিশীল করার কৌশল হিসেবে এনবিআর পুনর্গঠনের বিস্তারিত উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিরসন ও দুর্নীতি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়ন—এই দুটি পৃথক অংশে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এর উদ্দেশ্য হলো নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা।