হরমুজের ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার হুমকি: কাতারের কড়া সতর্কতা
- আপডেট সময় : ০২:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবল লাইনগুলোতে হামলার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে ওই এলাকায় নতুন অস্ত্র ও লক্ষ্যবস্তু ব্যবহারের হুমকি আসার পর কাতার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-হাশমি মঙ্গলবার এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করেন যে, এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড শুধু বৈশ্বিক যোগাযোগ নয়, বরং ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও স্বাভাবিক জনজীবনকেও অচল করে দিতে পারে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র হুসেইন মাহবি এবং নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবলকে তাদের নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের দাবি, ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটার বড় একটি অংশ এই ক্যাবলগুলোর মাধ্যমেই আদান-প্রদান হয়। তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোহেব্বি এই হুমকি প্রদান করেন এবং অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুরোপুরি বিলুপ্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের বাহিনীটি ওই হুমকি দেয় বাহিনীটি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্টাংশ বলে তিনি যাকে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেছেন।
টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্যমতে, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি ডেটা আদান-প্রদান হয় লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে। এর আগে মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ক্লাউড সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান হুমকিটিকে আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে। এতে অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্লাউড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর এই অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের মতো জীবনধারণের মৌলিক বিষয়ের জন্য নির্ভরশীল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সমুদ্রের তলদেশের অবকাঠামোয় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তা শুধু ইন্টারনেট যোগাযোগ নয়, বরং পানির নিরাপত্তাকেও চরম হুমকির মুখে ফেলবে। কাতার এই জলপথে সব ধরনের সামরিক হুমকি ও আক্রমণাত্মক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জলপথটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বারবার এমন যুদ্ধের হুঙ্কার ও নতুন অস্ত্রের প্রদর্শনের ঘোষণার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তজনা বেড়েই চলেছে। কাতার মনে করে, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তির অবকাঠামোয় হামলার হুমকি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করার ক্ষমতা রাখে। দেশটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
























