আসামে উচ্ছেদ অভিযান: হাজারো মুসলিম পরিবার বাস্তুচ্যুত
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
ভারতের আসাম রাজ্যে বনভূমি পুনরুদ্ধারের নামে এক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। রাজ্য প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে গোলাঘাট, হোজাই ও নগাঁও জেলায় ৬৩৮ হেক্টরের বেশি ভূমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বন বিভাগের সংরক্ষিত জমি রক্ষা করা এবং অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, রাজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত জরুরি। পুরো অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মূলত বন বিভাগের সুরক্ষিত জমি রক্ষা করা এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নানা কাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া। কারণ, যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
অভিযানের সবচেয়ে বড় অংশটি পরিচালিত হয়েছে গত রোববার নগাঁও জেলার লুতুমাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। সেখানে একদিনেই ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়, যার ফলে পাঁচ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি তথ্যমতে, তিনটি জেলা মিলিয়ে মোট উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। বন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ৯০ শতাংশ দখলদার স্বেচ্ছায় সরে যান। বন বিভাগ জোর দিয়ে বলেছে যে, সম্পূর্ণ উচ্ছেদ কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা মেনেই পরিচালনা করা হয়েছে। এরই ফলে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ কথিত দখলদার স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা খালি করে চলে যান।
তবে সরকারি দাবির বিপরীতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠন। তাদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। সংগঠনের সভাপতি জানান, লুতুমাই বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অনেককে ১৯৭৩ সালে সরকার নিজেরাই সাময়িকভাবে সেখানে পুনর্বাসন করেছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, আদালত উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও প্রশাসনের কার্যক্রম কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই চালানো হচ্ছে, অথচ অন্য ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের এলাকায় এখনো কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, উচ্ছেদ চলাকালীন ১ হাজার ১০০-এর বেশি পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বনভূমি উদ্ধার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এই উচ্ছেদের প্রভাব নিয়ে রাজ্যজুড়ে বর্তমানে এক স্পর্শকাতর ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫০০–এর বেশি পরিবার।


























