ফ্রান্সে চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসন দেখছেন নেতানিয়াহু
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
ফ্রান্সে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও পরবর্তী দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে দেশটির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, দেশটিতে চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসন চলছে। মঙ্গলবার এক বক্তব্যে তিনি ফরাসি নেতাদের অস্থিরতা সামলানোর ক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহুর দাবি, চরমপন্থি মুসলিমরাই এই অস্থিরতার মূল কারণ। যদিও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে হওয়া ওই বিক্ষোভে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। এমন মিথ্যা দাবিও ব্যবহার করেছেন।
ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল আই২৪নিউজে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দোভাষীর অনুবাদ অনুযায়ী নেতানিয়াহু দাবি করেন, ফ্রান্সের শাসকরা সময়মতো কোনো প্রস্তুতি নেয়নি এবং পরিস্থিতির কাছে নতি স্বীকার করেছে। তিনি চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে তিনি সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এখানে তাদের নির্মূল করতে না পারি, তবে প্যারিসে তাদের দেখতে পাবেন।’ তবে নিজের এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য পশ্চিমা বিশ্বের উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিকদের বক্তব্যের সাথে মিলে যায়, যারা ভিত্তিহীনভাবে দাবি করে আসছেন যে অভিবাসনের ফলে বৃটেনের মতো ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামি আইন কার্যকর হয়েছে। এ ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত আগস্টেও নেতানিয়াহু বৃটেনকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ বলে বিদ্রূপ করেছিলেন, যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল লন্ডন। এছাড়া গত বছর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ফ্রান্সের প্রতি ইসরাইলের অসন্তোষ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ফ্রান্সের এই দাঙ্গার দায় অভিবাসনের ওপর চাপিয়েছেন। সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা মূলত অভিবাসনজনিত সমস্যা। তিনি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার পরামর্শ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন রোধকে অন্যতম ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে জাতিগত ভীতি ছড়ানোর মতো মিথ্যা দাবির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাকে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প। আমি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে বলেছি, আপনাদের সীমান্ত বন্ধ করুন। এ সময় তিনি কখনো কখনো জাতিগত ভীতিকে উসকে দেয়।
























