সাইবার আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়া ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’। সংস্থাটি মনে করে, ২০২৬ সালের এই আইনের বিভিন্ন অস্পষ্ট ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। আইনটিতে ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্য’র মতো অস্পষ্ট শব্দগুলোকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বাকস্বাধীনতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত কাঠামোয় জামিন অযোগ্য অপরাধের বিধান বহাল রাখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংস্থাটির শঙ্কা, কোনো বিচারিক তদারকি ছাড়াই কনটেন্ট বন্ধ করে দেওয়া, পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তারের মতো ক্ষমতা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের বিধান সাইবার জগতে অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ও নিপীড়নের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে ‘স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ’ বা আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্য সরাসরি হুমকি স্বরূপ।
মুক্ত গণমাধ্যম রক্ষায় আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানের অধিকার স্বীকৃত। মতপ্রকাশের ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ অবশ্যই স্পষ্ট আইনের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, যা বৈধ উদ্দেশ্য সাধনে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হবে। রাজনৈতিক সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আইনি অস্পষ্টতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে এই সংস্থা।
বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’ সরকারের প্রতি আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি একই সঙ্গে সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বাধ্যতামূলকভাবে বিচারিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুনর্বহালের জোর দাবি জানিয়েছে।


























