ডিভি লটারি চালুর আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল
- আপডেট সময় : ১১:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কর্মসূচি পুনরায় চালু করার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই কর্মসূচি চালুর আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। সেইসঙ্গে আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় বিচারকের ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে পৃথক আবেদনও জমা দেয়া হয়েছে। এর ফলে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে যে, কর্মসূচি স্থগিত করার এই সিদ্ধান্তটি ছিল খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক।
এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জিনসুক ওহতা ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অভিবাসন বিষয়ক আইনি প্রতিষ্ঠান ‘রেড ইগল ল, এল.সি.’-এর দায়ের করা এক মামলায় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়াসহ পুরো কর্মসূচিটি ফের শুরুর নির্দেশ দেন। সাধারণত গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম এমন দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতি বছর ৫৫ হাজার পর্যন্ত ডাইভারসিটি ভিসা প্রদান করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে গত ১৯শে অক্টোবর এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের নোটিশ দাখিল করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ডিভি-২০২৭ এর আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কাজ চলছে এবং বাস্তবসম্মত হলেই তারা নতুন সময়সীমা ঘোষণা করবে। তবে ১লা অক্টোবর ২০২৭ অর্থবছর শুরু হলেও নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু না হওয়ায় মামলাটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারক ওহতার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, লটারির সুযোগ না দিয়ে কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে, যা যৌক্তিক নয়। পররাষ্ট্র দপ্তর কেন অনির্দিষ্টকালের জন্য এই স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছে, তার কোনো সদুত্তরও দিতে পারেনি। আদালত মনে করে, কর্মসূচিটি চালু করলে সরকারের ওপর কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপবে না এবং এটি জনস্বার্থেই পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, সরকার যুক্তি দিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর আদালত লটারি শুরুর আদেশ দিতে পারে না; তবে বিচারক তা নাকচ করে দিয়েছেন। বিচারক জানান, এটি কার্যকরভাবে কর্মসূচিটি বাতিল করার শামিল, কারণ লটারিতে অংশ নেয়া ছাড়া কেউ ডাইভারসিটি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না।
আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন পরাজিত হলে, আদালতের নির্ধারিত নতুন সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ২৯শে অক্টোবরের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিবন্ধনের সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১লা নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করতে হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই বিজয়ীদের ফলাফল জানিয়ে দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রেড ইগল ল-এর দাবি অনুযায়ী, লটারি বন্ধ থাকলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গ্রাহক হারাচ্ছে, যা পরবর্তীতে পূরণ করা সম্ভব নয়।
























