ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে জনপ্রিয় ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়। সম্প্রতি দেশটির শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসা লাখ লাখ বিক্ষোভকারীর হাতে একটি অদ্ভুত স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। কার্ডবোর্ডে লেখা সেই স্লোগানটি হলো—‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা।

আরবি ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’ এবং ফরাসি ‘সে লে তেনেব্র’ শব্দগুচ্ছের অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। দুটি ভাষা মিলিয়ে তৈরি এই বাক্যের সরাসরি অর্থ অস্পষ্ট মনে হলেও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য অনেক গভীর। তরুণদের এই আন্দোলন এখন প্রজন্মগত ব্যবধান ও পুলিশি নজরদারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নতুন রূপ ধারণ করেছে। তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি।

বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যক্তিগত স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে পাঠানো বার্তা থেকেই এই পরিচিতির সৃষ্টি বলে মনে করা হয়। আন্দোলনকারীদের দলে প্রবেশের জন্য অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একাধিক ভুয়া আইডি থেকে বার্তাগুলো পাঠাতেন। আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ও মামাদু বা আবদেল্লাহর মতো নাম ব্যবহার করে পাঠানো এসব বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এবং শেষে বলা হয়েছিল, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’ ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিকবার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

বার্তাগুলোর ভাষা তরুণদের মধ্যে প্রচলিত ভাষার অনুকরণ মনে হলেও তা বেশ হাস্যকর ঠেকেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর তরুণদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আন্দোলনের পরিকল্পনা জানতে ছদ্মবেশে বার্তাগুলো পাঠিয়েছেন। তরুণদের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারে কর্তৃপক্ষ কতটা অপটু, তা ব্যঙ্গ করতেই আন্দোলনকারীরা এটিকে আন্দোলনের প্রতীক বানিয়ে নেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই নতুন স্লোগান শিক্ষার্থী ও বিশেষ করে বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে দেশটির পুলিশের দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের প্রকাশ ঘটাচ্ছে। সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলো থেকে আসা কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের সন্তানেরা দীর্ঘকাল ধরে যে বৈষম্য ও পূর্বধারণার শিকার হয়ে আসছেন, এই বার্তাগুলোকে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা এজেন্টের এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের কথা তারা স্বীকার করেনি। তবে মন্ত্রণালয় জানায়, অনলাইনে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো আইনগতভাবে ছদ্মপরিচয় গ্রহণ করে থাকেন।

তরুণদের দাবি, তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা বা প্রতিবাদের মূল জায়গাটি বোঝার ক্ষমতা সরকারের নেই। ফ্রান্সের একটি শীর্ষ ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ এই ভাষার বৈপরীত্য উল্লেখ করে জানান, তরুণদের কথাবার্তার শৈলী এটি নয়। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের যেকোনো গুপ্ত নজরদারি ও চাল যে শিক্ষার্থীরা ধরে ফেলতে পারে এবং তা সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে জানে—এই স্লোগান তারই প্রমাণ। তাদের ধারণা, তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মতে, আলোচিত বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ভুল বোঝা এবং তাদের সম্পর্কে পূর্বধারণা পোষণের বিষয়টিও তুলে ধরে।

অন্যদিকে বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদানি সাবাদি এই প্রসঙ্গে বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝায় কতখানি পূর্বধারণা নিয়ে তাদের বিচার করা হয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুর চালানোর পেছনে বিশেষ একটি নির্দিষ্ট সামাজিক বা জাতিগত গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরাই সবসময় জড়িত থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্রান্সে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে জনপ্রিয় ‘বিসমিল্লাহ’ স্লোগান

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়। সম্প্রতি দেশটির শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসা লাখ লাখ বিক্ষোভকারীর হাতে একটি অদ্ভুত স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। কার্ডবোর্ডে লেখা সেই স্লোগানটি হলো—‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা।

আরবি ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’ এবং ফরাসি ‘সে লে তেনেব্র’ শব্দগুচ্ছের অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। দুটি ভাষা মিলিয়ে তৈরি এই বাক্যের সরাসরি অর্থ অস্পষ্ট মনে হলেও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য অনেক গভীর। তরুণদের এই আন্দোলন এখন প্রজন্মগত ব্যবধান ও পুলিশি নজরদারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নতুন রূপ ধারণ করেছে। তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি।

বিক্ষোভকারীদের একটি ব্যক্তিগত স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে পাঠানো বার্তা থেকেই এই পরিচিতির সৃষ্টি বলে মনে করা হয়। আন্দোলনকারীদের দলে প্রবেশের জন্য অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একাধিক ভুয়া আইডি থেকে বার্তাগুলো পাঠাতেন। আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ও মামাদু বা আবদেল্লাহর মতো নাম ব্যবহার করে পাঠানো এসব বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ এবং শেষে বলা হয়েছিল, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’ ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিকবার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

বার্তাগুলোর ভাষা তরুণদের মধ্যে প্রচলিত ভাষার অনুকরণ মনে হলেও তা বেশ হাস্যকর ঠেকেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর তরুণদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আন্দোলনের পরিকল্পনা জানতে ছদ্মবেশে বার্তাগুলো পাঠিয়েছেন। তরুণদের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারে কর্তৃপক্ষ কতটা অপটু, তা ব্যঙ্গ করতেই আন্দোলনকারীরা এটিকে আন্দোলনের প্রতীক বানিয়ে নেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই নতুন স্লোগান শিক্ষার্থী ও বিশেষ করে বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে দেশটির পুলিশের দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্কের প্রকাশ ঘটাচ্ছে। সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলো থেকে আসা কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের সন্তানেরা দীর্ঘকাল ধরে যে বৈষম্য ও পূর্বধারণার শিকার হয়ে আসছেন, এই বার্তাগুলোকে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা এজেন্টের এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের কথা তারা স্বীকার করেনি। তবে মন্ত্রণালয় জানায়, অনলাইনে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো আইনগতভাবে ছদ্মপরিচয় গ্রহণ করে থাকেন।

তরুণদের দাবি, তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা বা প্রতিবাদের মূল জায়গাটি বোঝার ক্ষমতা সরকারের নেই। ফ্রান্সের একটি শীর্ষ ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ এই ভাষার বৈপরীত্য উল্লেখ করে জানান, তরুণদের কথাবার্তার শৈলী এটি নয়। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের যেকোনো গুপ্ত নজরদারি ও চাল যে শিক্ষার্থীরা ধরে ফেলতে পারে এবং তা সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে জানে—এই স্লোগান তারই প্রমাণ। তাদের ধারণা, তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মতে, আলোচিত বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ভুল বোঝা এবং তাদের সম্পর্কে পূর্বধারণা পোষণের বিষয়টিও তুলে ধরে।

অন্যদিকে বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদানি সাবাদি এই প্রসঙ্গে বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝায় কতখানি পূর্বধারণা নিয়ে তাদের বিচার করা হয়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুর চালানোর পেছনে বিশেষ একটি নির্দিষ্ট সামাজিক বা জাতিগত গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরাই সবসময় জড়িত থাকে।