ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জুলাই গণঅভ্যুত্থান অস্বীকার করে রাজনীতির সুযোগ নেই: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অবকাশ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগকে অবশ্যই জুলাইয়ের ঘটনার জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সবচেয়ে বড় কথা জুলাইকে স্বীকার করতে হবে। এখনো রাজনৈতিক ওই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়নি যেভাবে তিনি ভাবছেন। ওই জিনিসটা সাইকোলজিক্যালি (মানসিকভাবে) এখনো মানুষের মাথায় আছে। কিন্তু এখন মানুষ ভোট দিয়েছে, আমরা নির্বাচিত হয়েছি, আমাদের বিরোধী দল আছে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান কৌশল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, দলটি নতুন করে বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরির পাঁয়তারা করছে এবং দেশে গণতন্ত্র নেই বলে প্রচার চালাচ্ছে। অথচ তারা গত ১৭ বছরে দেশের পুরো ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, যা পুনর্গঠন করতে বর্তমান সরকারের কিছুটা সময় লাগছে। দেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৫ কোটি তরুণ ও যুবসমাজ রয়েছে। আওয়ামী লীগের তৈরি করা মনগড়া বয়ান দিয়ে এই বিপুলসংখ্যক তরুণকে ফের আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া অসম্ভব বললেই চলে। এই ৫ কোটি মানুষকে আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ (বয়ান) দিয়ে ফেরত আসাটা অনেক বড় মুশকিল হবে। তারা সরাসরি আওয়ামী লীগের এই পতন বা আওয়ামী লীগের এই দেশ ছাড়ার মধ্যে, সরাসরি হোক বা ইনডাইরেক্টলি হোক তারা পার্টিসিপেট (অংশগ্রহণ) করেছে। তারা রাজপথে, ফেসবুকে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ছিল।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিনি আর দেশে ফিরবেন কি না, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। ২০২৪ সালে সংঘটিত গণহত্যা, মানসিক আঘাত এবং সার্বিক অত্যাচারের রেশ থেকে দেশের মানুষ এখনো পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। ফলে আওয়ামী লীগের জন্য দেশে পুনরায় ফিরে আসার বা রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত ক্ষীণ। আমার ধারণা, এখনো বাংলাদেশ ২০২৪-এর যে হত্যা, ট্রমা ও অত্যাচার ওখান থেকে এখনো মানুষ বের হয়ে আসতে পারেনি। তারা যদি রাজনীতিতে আসতে চায়, তাহলে আরো কনস্ট্রাক্টিভ ওয়েতে (গঠনমূলক উপায়) চিন্তাভাবনা করতে হবে। পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই আরম্ভ হচ্ছিল যে, এখানে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার, ভারতীয় কিছু কিছু মোদি মিডিয়া সেগুলো সম্প্রচার করার চেষ্টা করছে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি অত্যন্ত আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুভ শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। সারা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো ধরনের বাধা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই উৎসবে মেতেছিলেন, যা দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশকে নির্দেশ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থান অস্বীকার করে রাজনীতির সুযোগ নেই: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অবকাশ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগকে অবশ্যই জুলাইয়ের ঘটনার জন্য দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সবচেয়ে বড় কথা জুলাইকে স্বীকার করতে হবে। এখনো রাজনৈতিক ওই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়নি যেভাবে তিনি ভাবছেন। ওই জিনিসটা সাইকোলজিক্যালি (মানসিকভাবে) এখনো মানুষের মাথায় আছে। কিন্তু এখন মানুষ ভোট দিয়েছে, আমরা নির্বাচিত হয়েছি, আমাদের বিরোধী দল আছে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান কৌশল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, দলটি নতুন করে বয়ান বা ন্যারেটিভ তৈরির পাঁয়তারা করছে এবং দেশে গণতন্ত্র নেই বলে প্রচার চালাচ্ছে। অথচ তারা গত ১৭ বছরে দেশের পুরো ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, যা পুনর্গঠন করতে বর্তমান সরকারের কিছুটা সময় লাগছে। দেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ৫ কোটি তরুণ ও যুবসমাজ রয়েছে। আওয়ামী লীগের তৈরি করা মনগড়া বয়ান দিয়ে এই বিপুলসংখ্যক তরুণকে ফের আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া অসম্ভব বললেই চলে। এই ৫ কোটি মানুষকে আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ (বয়ান) দিয়ে ফেরত আসাটা অনেক বড় মুশকিল হবে। তারা সরাসরি আওয়ামী লীগের এই পতন বা আওয়ামী লীগের এই দেশ ছাড়ার মধ্যে, সরাসরি হোক বা ইনডাইরেক্টলি হোক তারা পার্টিসিপেট (অংশগ্রহণ) করেছে। তারা রাজপথে, ফেসবুকে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ছিল।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিনি আর দেশে ফিরবেন কি না, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। ২০২৪ সালে সংঘটিত গণহত্যা, মানসিক আঘাত এবং সার্বিক অত্যাচারের রেশ থেকে দেশের মানুষ এখনো পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। ফলে আওয়ামী লীগের জন্য দেশে পুনরায় ফিরে আসার বা রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ অত্যন্ত ক্ষীণ। আমার ধারণা, এখনো বাংলাদেশ ২০২৪-এর যে হত্যা, ট্রমা ও অত্যাচার ওখান থেকে এখনো মানুষ বের হয়ে আসতে পারেনি। তারা যদি রাজনীতিতে আসতে চায়, তাহলে আরো কনস্ট্রাক্টিভ ওয়েতে (গঠনমূলক উপায়) চিন্তাভাবনা করতে হবে। পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই আরম্ভ হচ্ছিল যে, এখানে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার, ভারতীয় কিছু কিছু মোদি মিডিয়া সেগুলো সম্প্রচার করার চেষ্টা করছে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি অত্যন্ত আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুভ শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। সারা দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো ধরনের বাধা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই উৎসবে মেতেছিলেন, যা দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশকে নির্দেশ করে।