কুশনারের বিরুদ্ধে গোপন অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০২:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট গোপনে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের অর্থায়নে পরিচালিত এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি মোটা অঙ্কের লেনদেন করেছেন। ফাউন্ডেশনটি মূলত আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা। এর বাইরে ছিল আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।
ভ্যানিটি ফেয়ারের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা কুশনারের আইফোনে নজরদারি চালিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। এতে দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলার বিনিময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কুশনারের গোপন আর্থিক সমঝোতা হয়েছিল। যুবরাজের একের পর এক ভুল হিসাব—সৌদি আরব কীভাবে নতুন করে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। এ–প্রাসাদ থেকে ও–প্রাসাদ—দফায় দফায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৌদি যুবরাজকে।
এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের নতুন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’-এর তথ্যের ভিত্তিতে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিষয়ে কাজ করা ম্যাথু কোল তাঁর বইয়ে এসব গোপন লেনদেনের চিত্র তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা কুশনারের মুঠোফোনে আড়ি পেতে আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি অ্যাকাউন্টে শত শত মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের তথ্য পান।
ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’ নামক এই অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি (৭৫০ মিলিয়ন) ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই অ্যাকাউন্টের অন্যতম স্বাক্ষরকারী হিসেবে কুশনারের প্রবেশের সুযোগ থাকলেও তিনি এর মালিক ছিলেন না; বরং আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই তাহনুন বিন জায়েদ এটি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
তদন্তকারী সাংবাদিকের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাদের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য পূরণে একটি গোপন তহবিল বা ‘স্ল্যাশ ফান্ড’ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। যদিও সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি, তবে ওই দুই নেতা কুশনারের দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার জমা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আরও ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার পৃথক একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ এই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অর্থ ইসরায়েলে জমা করার জন্য কুশনারকে উৎসাহিত করেছিলেন। এই লেনদেনের ক্ষেত্রে তৎকালীন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। ১ লাখ ইয়েমেনি সেনার সমন্বয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির, সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ। তখন তাঁকে তীব্র গণমাধ্যম কাভারেজ, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং একজন বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন জ্যারেড কুশনার। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিবেদনকে ‘কল্পকাহিনি ও পক্ষপাতমূলক প্রচারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কুশনারের ভাষ্যমতে, ‘আমি নিজে থেকে এসব তদন্তে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাক্ষ্য দিয়েছি। তখন এসব অভিযোগের ছিটেফোঁটাও সামনে আসেনি, কারণ ঘটনাগুলোর কোনোটিই বাস্তবে ঘটেনি।’ এটি আসলে কল্পনা, কল্পকাহিনি আর পক্ষপাতমূলক প্রচারণার এক মিশ্রণ।
ট্রাম্পের এই জামাতা আরও দাবি করেন, ওই সময় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দাবি নথিপত্রসহ অস্বীকার করেছি। লেখক এর সপক্ষে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড বা যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি।’ তা সত্ত্বেও লেখক এগুলোর কোনো একটি প্রমাণ করার জন্য সামান্যতম প্রমাণও হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এই প্রতিবেদনকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলা করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মিজেল বলেন, আইনি পদক্ষেপসহ সব পথই তাদের জন্য খোলা আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একজন ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনারা কি মামলা করবেন।
উল্লেখ্য যে, প্রতিবেদনে উল্লিখিত এই অভিযোগগুলো এখনো কোনো আইনি তদন্তে অপরাধ বা অন্যায় হিসেবে প্রমাণিত হয়নি। বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী জ্যারেড কুশনার পুনরায় ট্রাম্পের শান্তি আলোচনা-বিষয়ক দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। এমন একজন এটি লিখেছেন, যিনি হয় মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত, না হয় কোনো মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’।
























