জাপান সফরে তারেক রহমান, অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফর দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। এই সফরটি দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক আস্থা সুসংহত করা এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে টোকিও। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো পুনর্ব্যক্ত করতে পারবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফর। ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বাসসের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করাও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জাইকা (JICA) প্রেসিডেন্ট, জেট্রো (JETRO) প্রেসিডেন্ট, জেবিআইসি (JBIC) গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন। সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং জাপানি বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণের কৌশল নির্ধারণ। এছাড়া বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান তৈরি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশটির সহায়তা নেওয়ার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রসচিবের তথ্যানুযায়ী, কৃষি, মৎস্য, বেসামরিক বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এবং এই সফর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জাপান। এছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শিল্পখাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবেন।


























