সংবিধান সংশোধনে সর্বোচ্চ অর্জন প্রত্যাশা আসিফ নজরুলের
- আপডেট সময় : ১১:০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
সংবিধান সংশোধন বিষয়ক সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছে সর্বোচ্চ অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে আয়োজিত ওই বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন। আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধান বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও কার্যকর একটি সংবিধান আমরা পাবো বলে আশা রাখি। ছোটখাটো যেকোনো অর্জনই আমাদের জন্য লাভজনক, তবে আমরা চাইব সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফলাফল যেন নিশ্চিত হয়। আসিফ নজরুল বলেন, আমরা আশা করব যে, সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই এবং যতটুক অর্জন হবে সেটাই আমাদের লাভ। তিনি বলেন, আর হচ্ছে আপনার কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট কি ফর্মে গঠন করা হবে, সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কথা হচ্ছে এখনো। আমি বিশ্বাস করি আল্টিমেটলি আমরা লক্ষ্যটা অ্যাচিভ করতে পারছি কিনা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেটা হচ্ছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, আর কি এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ এটার মধ্যে আমি যেতে চাচ্ছি না। স্থায়ী কমিটিগুলো যেন ঠিকমত কাজ করতে পারে এজন্য সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে একটা আইন প্রণয়নের থাকার কথা তুলে ধরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এ আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব বলেছেন যে এটা ওনারা করবেন।
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের আইনি প্রেক্ষাপট সবারই জানা। ব্যক্তিগত মতামতে তিনি বলেন, সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই একটি সংস্কার হিসেবে গণ্য। তবে দিনশেষে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই শিক্ষক জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কোন আঙ্গিকে গঠিত হবে, নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এখনো তা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা কি চেয়েছিলাম আইনের মধ্যেই আপনারা বুঝতে পারেন।
এর আগে ২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার স্মৃতিচারণ করে আসিফ নজরুল বলেন, সে সময় অনেক প্রত্যাশা থাকলেও পরে পঞ্চদশ সংশোধনীর মতো বিতর্কিত পদক্ষেপ দেখা গিয়েছিল। এবার সেই অতীত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলো সংবিধানের সংশোধনীতে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে সম্ভবত ২০১১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে যে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং হয়েছিল সেখানেও আমি ইনভাইটেড হয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম।
বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে নিজের হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাতিলের সিদ্ধান্তটি দুঃখজনক। তিনি বিএনপি ও সংশ্লিষ্টদের পুরোনো প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলে আইনমন্ত্রী জানান, পরবর্তীতে তারা এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবেন। এছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো যেন কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেজন্য ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একইসাথে গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধান হিসেবে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন আসিফ নজরুল, যার বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সাড়া মেলেনি বলে তিনি জানান।


























