ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাসংকটে রাজপথে লাখো বিক্ষোভকারী
- আপডেট সময় : ০৭:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও শিক্ষাব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির প্রতিবাদে ফ্রান্সের রাজপথে আবারও নেমে এসেছেন লাখো মানুষ। এমিলি গ্রঁদ্রি নামের এক ফরাসি মা জানান, সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি মিছিলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। গত সপ্তাহে কাঁদানে গ্যাসের মুখোমুখি হওয়ার পরও অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এমিলির ১৫ বছর বয়সী ছেলে অ্যারনের অভিযোগ, স্কুল ভবনগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং শিক্ষক সংকটের ব্যাপারে সরকার চরম উদাসীন। পুলিশের বাধাকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছে সে। অথচ সরকার এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়াকে নিছক ক্ষমতার অপব্যবহার বলে উল্লেখ করে সে।
বিক্ষোভের তীব্রতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ক্লারা লেব্বাদি বলেন, ভাঙচুর হওয়া দোকানের জন্য অনেকেই শোক প্রকাশ করছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের দুরবস্থা কারো চোখে পড়ছে না।
বিক্ষোভকারীদের একটি প্ল্যাকার্ডে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সরকারি সম্পদ নষ্ট করলে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তবে যারা জনগণকে আঘাত করছে তাদের দায়বদ্ধতা কোথায়? নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে মিছিলে যোগ দেওয়া শিক্ষক বেনেদিক্ত পিত্তিওঁ জানান, তরুণ প্রজন্মের দাবি উপেক্ষা করায় তিনি রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। একই সুরে কথা বলেছেন যোগাযোগকর্মী নাদেজ, যার ভাষ্যমতে সবাই ভয় পেলেও অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন থাকা প্রয়োজন। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকিং পরামর্শক পিয়েরও তার আট বছর বয়সী নাতনির সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ‘এভাবে হাল ছেড়ে দেওয়া যায় না, আমাদেরকে রাজপথে ফিরতেই হতো। বিক্ষোভকারীদের একটি প্ল্যাকার্ডেও এই ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ফরাসি শিক্ষার্থী লাওয়ের ভাষ্য, ভয়ের মুখে আন্দোলন থামালে দাবি আদায় হবে না। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে যোগাযোগকর্মী নাদেজ বলেন, ‘সবাই বেশ ভয় পাচ্ছে।
বিক্ষোভের বিস্তার ও জনসমাগম নিয়ে তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। যদিও আয়োজক ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই সংখ্যা প্রায় আট লাখ। শনিবার রাতে প্যারিস ও মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছিল। আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও; ল্যুভর জাদুঘর বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীরা বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসা দেখতে পারেননি। এছাড়া মুসে দর্সে এবং প্যারিস অপেরার কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়েছিল।
























