ইরানি ষড়যন্ত্রে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উচ্চ ঝুঁকি, সতর্ক করলেন গোয়েন্দা প্রধান
- আপডেট সময় : ০৯:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের হত্যার লক্ষ্যে ইরান তাদের ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন এক গোয়েন্দা মেমোতে এই ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো ওই বার্তায় তিনি গোয়েন্দা তথ্যগুলো তুলে ধরেন। মেমোর অনুলিপি সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফকেও দেওয়া হয়েছে।
ক্লেটন তার বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইরান এখন মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যানুসারে, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার এই ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত বা উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এরই মধ্যে কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কর্মরত জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের এলাকাটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মিশন থেকে কর্মকর্তাদের পরিবার সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার পররাষ্ট্র দপ্তর পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনেরও বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে। এই দেশগুলোর তালিকায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরায়েলের মতো রাষ্ট্রগুলো রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দূতাবাসগুলোতে জনবল কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়। হুতি বাহিনীর হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই এই মিশনগুলোতে ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের নিয়ম চালু করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক অস্থিরতার পাশাপাশি বর্তমান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়েছে। ইরান যুদ্ধ প্রায় আট মাস পার করে নবম মাসে গড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এর বাইরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বৃদ্ধির ঘটনা সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
























