ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অনুচিত: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অ্যার্টনি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, কাউকে আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো পরিস্থিতির আইনি মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী আইন কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। তাই যেকোনো ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌননিপীড়নের অভিযোগের ঘটনার আইনগত দিক কী—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আজ রোববার দুপুরে অ্যার্টনি জেনারেল এই মন্তব্য করেন। নিজ কার্যালয়ে অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘দেখুন আমার মনে হয়, পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে, যে দেশে এত বেশি আইন আছে।

তদন্তাধীন ওই ঘটনায় আইনি প্রতিকার সম্ভব বলে মন্তব্য করে অ্যার্টনি জেনারেল জানান, তিনি অবগত আছেন যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনের মানুষ হিসেবে তিনি মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়াতেই বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। যদি কেউ অপরাধ করে থাকেন, তবে তিনি অবশ্যই আইনের আওতায় শাস্তি পাবেন, আবার নিরপরাধ ব্যক্তিও ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। মামলা তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, শিক্ষকদের মূল ভূমিকা হলো ‘লোকো প্যারেন্টিস’ বা মা-বাবার মতো। তিনি প্রত্যাশা করেন, বিচ্ছিন্ন কোনো আচরণের কারণে যেন শিক্ষকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোরেরা যেন নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অর্থাৎ, মা-বাবার যে ভূমিকা, শিক্ষকেরা সেই ভূমিকা পালন করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, সন্তানের বিপদে বাবা-মায়ের স্বাভাবিক আবেগ থাকাটা যেমন অমূলক নয়, তেমনি দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো শিক্ষক সমাজকে ঢালাওভাবে টার্গেট করাও কাম্য নয়। মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া ও পরে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মতো ঘটনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। ‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। একটা-দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো শিক্ষকসমাজকে টার্গেট করা উচিত হবে না।

উল্লেখ্য যে, টঙ্গীর ওই মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুর বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বিচারের দাবি নিয়েই মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরণের সহিংস বা মব পরিস্থিতির জন্য নয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে অ্যার্টনি জেনারেল নিশ্চিত করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অনুচিত: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অ্যার্টনি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, কাউকে আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেকোনো পরিস্থিতির আইনি মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী আইন কাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। তাই যেকোনো ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত। টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌননিপীড়নের অভিযোগের ঘটনার আইনগত দিক কী—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আজ রোববার দুপুরে অ্যার্টনি জেনারেল এই মন্তব্য করেন। নিজ কার্যালয়ে অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘দেখুন আমার মনে হয়, পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে, যে দেশে এত বেশি আইন আছে।

তদন্তাধীন ওই ঘটনায় আইনি প্রতিকার সম্ভব বলে মন্তব্য করে অ্যার্টনি জেনারেল জানান, তিনি অবগত আছেন যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনের মানুষ হিসেবে তিনি মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়াতেই বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। যদি কেউ অপরাধ করে থাকেন, তবে তিনি অবশ্যই আইনের আওতায় শাস্তি পাবেন, আবার নিরপরাধ ব্যক্তিও ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। মামলা তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, শিক্ষকদের মূল ভূমিকা হলো ‘লোকো প্যারেন্টিস’ বা মা-বাবার মতো। তিনি প্রত্যাশা করেন, বিচ্ছিন্ন কোনো আচরণের কারণে যেন শিক্ষকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গাটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোরেরা যেন নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অর্থাৎ, মা-বাবার যে ভূমিকা, শিক্ষকেরা সেই ভূমিকা পালন করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, সন্তানের বিপদে বাবা-মায়ের স্বাভাবিক আবেগ থাকাটা যেমন অমূলক নয়, তেমনি দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো শিক্ষক সমাজকে ঢালাওভাবে টার্গেট করাও কাম্য নয়। মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া ও পরে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মতো ঘটনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। ‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। একটা-দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো শিক্ষকসমাজকে টার্গেট করা উচিত হবে না।

উল্লেখ্য যে, টঙ্গীর ওই মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুর বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বিচারের দাবি নিয়েই মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরণের সহিংস বা মব পরিস্থিতির জন্য নয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে অ্যার্টনি জেনারেল নিশ্চিত করেছেন।