ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ১০০০ জন গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্কুলের দুরবস্থার প্রতিবাদে আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। শনিবারের এই বড় ধরনের বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে দেশটির পুলিশ প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিসসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশব্যাপী প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যদিও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

দিনের শুরুতে বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর প্যারিসের পোর্ট দ্য ইতালি থেকে পোর্ট দ্য ভিনসেন পর্যন্ত মিছিল শেষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন ও অস্থায়ী ব্যারিকেড গড়ে তোলেন। দাঙ্গা দমনে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট অভিযানে অংশ নেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, মিছিলের পেছনের অংশে থাকা প্রায় ৫০০ উগ্রপন্থী কর্মীকে দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। শুধু প্যারিসেই ১৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভ-সহিংসতায় ফ্রান্সের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিবিসি বলছে, অভিযানে সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সাধারণত ব্যবহৃত একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটও অংশ নিয়েছে। গত সপ্তাহের একই দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যার তুলনায় এটি অর্ধেকেরও কম। এদিকে ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা প্রায় ১৫০ জন ছিলাম। দেশজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের চুপ করিয়ে রাখে। তার কাছাকাছি একটি বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু বিস্ফোরিত হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির বিভিন্ন শহরজুড়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মার্সেই শহরের রাস্তায় ময়লার পাত্রে আগুন ও ধাতব ব্যারিকেড দেখা গেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলার গাড়ির চলাচলও বিঘ্নিত হয়। বোর্দোতে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে সড়কে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। লিয়ঁ শহরে নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বুশ-দ্যু-রোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট বা ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্সেইয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে রাস্তায় তৈরি ব্যারিকেড। মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণ একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙতে শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িকে জ্বলন্ত ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে চলতে দেখা গেছে। বেশির ভাগই মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সংঘর্ষে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তুলুজ শহরের এক ২০ বছর বয়সী তরুণের হাত থেকে কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সইনফো। এছাড়া ক্লেরমঁ-ফেরাঁর এক বাসিন্দা গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কিশোর ও তরুণ বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে তাদের প্রজন্ম হতাশ এবং তারা নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করছেন। ২৬ বছর বয়সী জেলি নামে এক নারী প্যারিসে জানান, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষ উচ্চ কর ও জীবনযাত্রার দুরবস্থার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ‘আমরা অনেক দিন ধরে ভুগছি’ বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, করের বোঝা এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হচ্ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হতে চললেও জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালি প্রার্থী মারিন লে পেন এবং কট্টর বামপন্থি লা ফ্রঁস ইনসুমিজের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে ওর্লেয়াঁ শহরে ন্যাশনাল র‌্যালি দলের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পৃথক একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার ভোরেও অনেক এলাকায় উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্রান্সে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ১০০০ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্কুলের দুরবস্থার প্রতিবাদে আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখ লাখ সাধারণ মানুষ। শনিবারের এই বড় ধরনের বিক্ষোভে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে দেশটির পুলিশ প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিসসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশব্যাপী প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যদিও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

দিনের শুরুতে বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যার পর প্যারিসের পোর্ট দ্য ইতালি থেকে পোর্ট দ্য ভিনসেন পর্যন্ত মিছিল শেষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন ও অস্থায়ী ব্যারিকেড গড়ে তোলেন। দাঙ্গা দমনে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট অভিযানে অংশ নেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, মিছিলের পেছনের অংশে থাকা প্রায় ৫০০ উগ্রপন্থী কর্মীকে দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। শুধু প্যারিসেই ১৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। গত সপ্তাহের বিক্ষোভ-সহিংসতায় ফ্রান্সের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিবিসি বলছে, অভিযানে সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সাধারণত ব্যবহৃত একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটও অংশ নিয়েছে। গত সপ্তাহের একই দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যার তুলনায় এটি অর্ধেকেরও কম। এদিকে ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহরের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা প্রায় ১৫০ জন ছিলাম। দেশজুড়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের চুপ করিয়ে রাখে। তার কাছাকাছি একটি বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু বিস্ফোরিত হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির বিভিন্ন শহরজুড়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মার্সেই শহরের রাস্তায় ময়লার পাত্রে আগুন ও ধাতব ব্যারিকেড দেখা গেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলার গাড়ির চলাচলও বিঘ্নিত হয়। বোর্দোতে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে সড়কে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। লিয়ঁ শহরে নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়া জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বুশ-দ্যু-রোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট বা ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্সেইয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে রাস্তায় তৈরি ব্যারিকেড। মুখোশ পরা কয়েকজন তরুণ একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভাঙতে শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িকে জ্বলন্ত ব্যারিকেডের মধ্য দিয়ে চলতে দেখা গেছে। বেশির ভাগই মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

সংঘর্ষে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তুলুজ শহরের এক ২০ বছর বয়সী তরুণের হাত থেকে কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সইনফো। এছাড়া ক্লেরমঁ-ফেরাঁর এক বাসিন্দা গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কিশোর ও তরুণ বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে তাদের প্রজন্ম হতাশ এবং তারা নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করছেন। ২৬ বছর বয়সী জেলি নামে এক নারী প্যারিসে জানান, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষ উচ্চ কর ও জীবনযাত্রার দুরবস্থার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ‘আমরা অনেক দিন ধরে ভুগছি’ বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, করের বোঝা এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হচ্ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হতে চললেও জনমত জরিপে কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালি প্রার্থী মারিন লে পেন এবং কট্টর বামপন্থি লা ফ্রঁস ইনসুমিজের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে ওর্লেয়াঁ শহরে ন্যাশনাল র‌্যালি দলের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পৃথক একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার ভোরেও অনেক এলাকায় উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।