সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা বিচারে প্রস্তুত
- আপডেট সময় : ০৬:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে মামলাটি বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত হলো। আজ রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করেন।
মামলায় আনিসুল হক ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক, ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ের মোহাম্মদ ইকবাল। শুনানির সময় কারাগারে থাকা সাবেক আইনমন্ত্রীকে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি তিন আসামি পলাতক থাকায় বিচারক তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদক উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে আনিসুল হক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর একই কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এজাহার ও চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, আনিসুল হকের নামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৈধ আয় থেকে পারিবারিক খরচ বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট গ্রহণযোগ্য আয় দাঁড়িয়েছিল ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। সে হিসাবে তাঁর ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনজনের নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি, আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে, যা মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের চিত্র নির্দেশ করে।


























