ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ পরিবর্তনের প্রস্তাব বিশেষ কমিটির সভায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণের প্রস্তাব উঠেছে। ২৫ অক্টোবর, রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির এক বৈঠকে এই প্রস্তাবসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সংসদের দুই কক্ষের গঠনপ্রক্রিয়া, আইনপ্রণেতাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো উঠে আসে।

কমিটির বিশেষ বৈঠকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতির ভিত্তিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে, তাকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার একটি বিকল্প প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো এবং এর কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে। বাকি ৫০টি আসন নিম্নকক্ষে দলগুলোর অর্জিত আসনের অনুপাতে বণ্টনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং গুরুত্বপূর্ণ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বিশদ পর্যালোচনার ইঙ্গিত মিলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ পরিবর্তনের প্রস্তাব বিশেষ কমিটির সভায়

আপডেট সময় : ১০:০৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণের প্রস্তাব উঠেছে। ২৫ অক্টোবর, রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির এক বৈঠকে এই প্রস্তাবসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সংসদের দুই কক্ষের গঠনপ্রক্রিয়া, আইনপ্রণেতাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো উঠে আসে।

কমিটির বিশেষ বৈঠকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতির ভিত্তিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে, তাকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার একটি বিকল্প প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো এবং এর কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে। বাকি ৫০টি আসন নিম্নকক্ষে দলগুলোর অর্জিত আসনের অনুপাতে বণ্টনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং গুরুত্বপূর্ণ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও বিশদ পর্যালোচনার ইঙ্গিত মিলেছে।