ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের কড়া আপত্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের সম্প্রতি দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, সরকার অনুমোদন দিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতে পুলিশ দ্বিধা করবে না। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি ও মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। অধিকার এই ধরনের বক্তব্যের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

টিআইবি জানিয়েছে, পুলিশের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইজিপির এই বক্তব্য পেশাগত দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি অভিযোগ করেন, আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে আবার সরকারের অনুমোদনে ক্রসফায়ারের কথা বলা সাংঘর্ষিক ও অযৌক্তিক। ড. জামান আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাহী নির্দেশে বাতিলযোগ্য নয়। সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, আইজিপি’র এ বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলার পরিবর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিপজ্জনক বার্তা দেয়। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে পুলিশ প্রধান ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি কিনা, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা। এর বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়; বরং পেশাগত দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত। অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কাউকে হত্যার এখতিয়ার পুলিশের নেই। অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ড এবং মামলার রায়সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এ পদ্ধতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়। টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবারের প্রকাশ করা অডিও এবং হত্যার অভিযোগও ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছিল। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় সাবেক র্যা ব কর্মকর্তাদের দণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপরাধমূলক ব্যবহারের বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। অতীতের এসব ঘটনা থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। যার দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্যে থেকে পরিচালনা করা, তিনিই ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনলে তার দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এরপরও পুলিশপ্রধান কেন সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা সামনে আনছেন, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটি বলেছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বিলুপ্ত র‌্যাব (বর্তমানে এসআরবি) কে যুক্তরাষ্ট্র কালো ভালিকা ভুক্ত করে।

সংস্থাটির দাবি, আইজিপিকে তার এই বেপরোয়া বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে কেন সন্ত্রাস দমনে আইনের পথে না হেটে এমন অসংগত মন্তব্যের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী যেখানে সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখানে পুলিশ প্রধানের এমন মন্তব্য পরিস্থিতির অসংগতি স্পষ্ট করে বলে টিআইবি মনে করছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিল জনগণ। অধিকারের তথ্যানুযায়ী, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যে ৫টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসলে বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রচ্ছন্ন ছাড়পত্র দেওয়ার শামিল। অধিকার দ্রুত আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংঘটিত ঘটনাসমূহের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ওদিকে, বিবৃতিতে অধিকার জানায়, ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাড়ে ১৫ বছর শাসনামলে ব্যাপকভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঐ সময়ে ভিন্নমভাবলম্বী ও রাজনৈতিক নেতা কর্মী সহ সাধারণ মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিলেন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতিমধ্যে ৫ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অধিকার ডকুমেন্ট করেছে।

টিআইবি আরও মনে করে, পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং সক্ষমতা বাড়ানোই মূল কাজ হওয়া উচিত, যা বৈধ সমালোচনা এড়ানোর অজুহাত হতে পারে না। অতীতের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার উদাহরণ টেনে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বিরূপ মন্তব্যের প্রসঙ্গে টিআইবি স্পষ্ট করেছে যে, ঢালাও অভিযোগ না তুলে নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, অন্যথায় তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নজরদারির পথকে সংকুচিত করবে।

পরিশেষে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কঠোর নিয়ম রয়েছে। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের এমন আগাম ইঙ্গিত কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং আইনের শাসনের প্রতি এক বড় ধরনের হুমকি বলেও সংস্থাগুলো মনে করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের কড়া আপত্তি

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের সম্প্রতি দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, সরকার অনুমোদন দিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতে পুলিশ দ্বিধা করবে না। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি ও মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। অধিকার এই ধরনের বক্তব্যের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

টিআইবি জানিয়েছে, পুলিশের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইজিপির এই বক্তব্য পেশাগত দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি অভিযোগ করেন, আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে আবার সরকারের অনুমোদনে ক্রসফায়ারের কথা বলা সাংঘর্ষিক ও অযৌক্তিক। ড. জামান আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাহী নির্দেশে বাতিলযোগ্য নয়। সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, আইজিপি’র এ বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলার পরিবর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিপজ্জনক বার্তা দেয়। বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে পুলিশ প্রধান ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি কিনা, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা এবং গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা। এর বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান নয়; বরং পেশাগত দেউলিয়াত্বের দৃষ্টান্ত। অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কাউকে হত্যার এখতিয়ার পুলিশের নেই। অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যদের দণ্ড এবং মামলার রায়সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এ পদ্ধতির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়। টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবারের প্রকাশ করা অডিও এবং হত্যার অভিযোগও ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছিল। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় সাবেক র্যা ব কর্মকর্তাদের দণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপরাধমূলক ব্যবহারের বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। অতীতের এসব ঘটনা থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, সে প্রশ্নের উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। যার দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্যে থেকে পরিচালনা করা, তিনিই ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনলে তার দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এরপরও পুলিশপ্রধান কেন সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা সামনে আনছেন, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটি বলেছে, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বিলুপ্ত র‌্যাব (বর্তমানে এসআরবি) কে যুক্তরাষ্ট্র কালো ভালিকা ভুক্ত করে।

সংস্থাটির দাবি, আইজিপিকে তার এই বেপরোয়া বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে কেন সন্ত্রাস দমনে আইনের পথে না হেটে এমন অসংগত মন্তব্যের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইনমন্ত্রী যেখানে সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখানে পুলিশ প্রধানের এমন মন্তব্য পরিস্থিতির অসংগতি স্পষ্ট করে বলে টিআইবি মনে করছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিল জনগণ। অধিকারের তথ্যানুযায়ী, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যে ৫টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসলে বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রচ্ছন্ন ছাড়পত্র দেওয়ার শামিল। অধিকার দ্রুত আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংঘটিত ঘটনাসমূহের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ওদিকে, বিবৃতিতে অধিকার জানায়, ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাড়ে ১৫ বছর শাসনামলে ব্যাপকভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঐ সময়ে ভিন্নমভাবলম্বী ও রাজনৈতিক নেতা কর্মী সহ সাধারণ মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিলেন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতিমধ্যে ৫ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অধিকার ডকুমেন্ট করেছে।

টিআইবি আরও মনে করে, পুলিশ সদস্যদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং সক্ষমতা বাড়ানোই মূল কাজ হওয়া উচিত, যা বৈধ সমালোচনা এড়ানোর অজুহাত হতে পারে না। অতীতের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার উদাহরণ টেনে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বিরূপ মন্তব্যের প্রসঙ্গে টিআইবি স্পষ্ট করেছে যে, ঢালাও অভিযোগ না তুলে নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, অন্যথায় তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নজরদারির পথকে সংকুচিত করবে।

পরিশেষে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কঠোর নিয়ম রয়েছে। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের এমন আগাম ইঙ্গিত কেবল অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং আইনের শাসনের প্রতি এক বড় ধরনের হুমকি বলেও সংস্থাগুলো মনে করছে।