ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আওয়ামী লীগের থেকে বিএনপি স্বৈরতন্ত্র শিখেছে: গোলাম পরওয়ার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিখেছে—ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণতন্ত্র এবং ক্ষমতায় গেলে স্বৈরতন্ত্রচর্চা করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা ফ্যাসিবাদের পথ ধরেই হাঁটছে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে নামের কেবল পার্থক্য থাকলেও তাদের মূল চরিত্র এক। চাঁদাবাজি, খুন ও দখলদারি যা আগে চলত, এখনো তা অব্যাহত রয়েছে; কেবল নামটা বদলে গেছে। গণতন্ত্রের হত্যাকারী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপন কোনো আঁতাত করে ইসলামি আন্দোলনকে ধ্বংস করার চক্রান্ত বিএনপির ছিল কি না, তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। ‘রক্তে ভেজা ২৮ অক্টোবর, ফ্যাসিবাদের উত্থান: কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

গণভোট ও আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিয়ে এখন সেই গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন। বিশ্বের কোথাও সরকারপ্রধানের এভাবে গণভোটে অংশ নিয়ে পরবর্তীতে সেই ভোট বাতিলের মতো বিশ্বাসঘাতকতার নজির নেই।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক নিয়মে বিশ্বাসী দল ছিল না। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর এড়াতে শেখ হাসিনা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি–বৈঠা ও অস্ত্র নিয়ে নেতা–কর্মীদের হামলা চালানোর স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে জামায়াতের পূর্বনির্ধারিত সভা শুরুর আগেই হামলা চালানো হয়।

২০০৬ সালের ঘটনার তদন্ত ও মামলার বিচার দাবি

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তৎকালীন মইনুদ্দিন–ফখরুদ্দীন সরকার ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে নৃশংস বললেও পরবর্তীতে তার বিচার করেনি। তারা অগোচরে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগসাজশ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার নকশা বাস্তবায়ন করেছিল। ওই ঘটনার পর দায়ের করা মামলাগুলো ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা এককভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। তাঁরা বরং তলে–তলে শেখ হাসিনার সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে কীভাবে পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আনা যায়, সে ব্লুপ্রিন্ট করেছিলেন।

সেই মামলাগুলো অবিলম্বে পুনরুজ্জীবিত করে জড়ো হওয়া আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান পরওয়ার। একই সঙ্গে তৎকালীন সরকারের নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান তিনি। অথচ তিনিও লগি–বৈঠার আন্দোলনের সময়কার খুনিদের একজন।

২৮ অক্টোবরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চার-দলীয় জোটের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরওয়ার বলেন

  • ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনে জামায়াত চেয়েছিল চার-দলীয় জোট যেন এক জায়গায় যৌথ কর্মসূচি পালন করে, কিন্তু বিএনপি তা আলাদা করে।
  • বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সহিংস হামলা হলেও নয়া পল্টনের তৎকালীন কর্মসূচি কীভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
  • তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা ও ভূমিকা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
  • বর্তমানে ইনুদের মতো নেতাদের ডিভিশন দেওয়া হচ্ছে, অথচ তারাও সেই সময়ের সহিংসতার সহযোগী ছিল।

সেমিনারের উপস্থিতিবৃন্দ

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুল মান্নান। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সমনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন

  • সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
  • ঢাকা–৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
  • ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম।
  • ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম ও নিহত সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামছুন নাহার রুবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আওয়ামী লীগের থেকে বিএনপি স্বৈরতন্ত্র শিখেছে: গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ০৯:১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিখেছে—ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণতন্ত্র এবং ক্ষমতায় গেলে স্বৈরতন্ত্রচর্চা করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা ফ্যাসিবাদের পথ ধরেই হাঁটছে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে নামের কেবল পার্থক্য থাকলেও তাদের মূল চরিত্র এক। চাঁদাবাজি, খুন ও দখলদারি যা আগে চলত, এখনো তা অব্যাহত রয়েছে; কেবল নামটা বদলে গেছে। গণতন্ত্রের হত্যাকারী ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপন কোনো আঁতাত করে ইসলামি আন্দোলনকে ধ্বংস করার চক্রান্ত বিএনপির ছিল কি না, তা নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। ‘রক্তে ভেজা ২৮ অক্টোবর, ফ্যাসিবাদের উত্থান: কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

গণভোট ও আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দিয়ে এখন সেই গণভোটের রায় অস্বীকার করছেন। বিশ্বের কোথাও সরকারপ্রধানের এভাবে গণভোটে অংশ নিয়ে পরবর্তীতে সেই ভোট বাতিলের মতো বিশ্বাসঘাতকতার নজির নেই।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক নিয়মে বিশ্বাসী দল ছিল না। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর এড়াতে শেখ হাসিনা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি–বৈঠা ও অস্ত্র নিয়ে নেতা–কর্মীদের হামলা চালানোর স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে জামায়াতের পূর্বনির্ধারিত সভা শুরুর আগেই হামলা চালানো হয়।

২০০৬ সালের ঘটনার তদন্ত ও মামলার বিচার দাবি

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তৎকালীন মইনুদ্দিন–ফখরুদ্দীন সরকার ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে নৃশংস বললেও পরবর্তীতে তার বিচার করেনি। তারা অগোচরে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগসাজশ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার নকশা বাস্তবায়ন করেছিল। ওই ঘটনার পর দায়ের করা মামলাগুলো ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা এককভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। তাঁরা বরং তলে–তলে শেখ হাসিনার সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগকে কীভাবে পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আনা যায়, সে ব্লুপ্রিন্ট করেছিলেন।

সেই মামলাগুলো অবিলম্বে পুনরুজ্জীবিত করে জড়ো হওয়া আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান পরওয়ার। একই সঙ্গে তৎকালীন সরকারের নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান তিনি। অথচ তিনিও লগি–বৈঠার আন্দোলনের সময়কার খুনিদের একজন।

২৮ অক্টোবরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চার-দলীয় জোটের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরওয়ার বলেন

  • ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনে জামায়াত চেয়েছিল চার-দলীয় জোট যেন এক জায়গায় যৌথ কর্মসূচি পালন করে, কিন্তু বিএনপি তা আলাদা করে।
  • বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সহিংস হামলা হলেও নয়া পল্টনের তৎকালীন কর্মসূচি কীভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
  • তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা ও ভূমিকা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
  • বর্তমানে ইনুদের মতো নেতাদের ডিভিশন দেওয়া হচ্ছে, অথচ তারাও সেই সময়ের সহিংসতার সহযোগী ছিল।

সেমিনারের উপস্থিতিবৃন্দ

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আবদুল মান্নান। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সমনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন

  • সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
  • ঢাকা–৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
  • ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম।
  • ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম ও নিহত সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মা শামছুন নাহার রুবি।