ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিদেশে মার্কিনদের ওপর হামলা পরিকল্পনা করছে ইরান: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের অনেকে সপরিবার তড়িঘড়ি করে অন্যত্র চলে যান এবং সন্তানদের নতুন স্কুলে ভর্তি করান।

সেই ঝক্কি সামলে তাঁদের অনেকে পরে আবার কর্মস্থলে ফিরে কাজ গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ, বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ।’।

তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে আবারও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের নিশানা করার তৎপরতা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

এ বছরের শুরুর দিকে যখন যুদ্ধ চরম রূপ নেয়, তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও অন্যান্য মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। এ বিষয়ে একজন মার্কিন কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল বললেও বাস্তবে তা কম বলা হবে। আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র নিকি গেমার উল্লেখ করেছেন যে চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন কূটনীতিকদের পরিবারগুলো যে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, আবারও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে।

যৌথ সামরিক অভিযান ও মার্কিন কূটনৈতিক মিশন খালি করার নির্দেশনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত চললেও সামরিক তীব্রতা আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশন থেকে কর্মী প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নন—এমন কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে সৌদি আরব ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত সতর্ক করে বলা হচ্ছে যে এই অঞ্চলভিত্তিক সংঘাত যেকোনো সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। শুধু সৌদি আরবই নয়, বরং জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও মিশনগুলো থেকেও কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এএফপি, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন নকশার খাইবার শেকান ও হজ কাসেমও রয়েছে। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ, গত ২০ মার্চ ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার চেষ্টা। ইরান অবশ্য এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে। যদিও এ নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ড্রোন। ইরানের ড্রোন কর্মসূচির সূচনা হয় ১৯৮০-এর দশকে, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। প্রচলিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে ইরান ড্রোনকে অসম যুদ্ধকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের গোপনীয় মেমো ও পররাষ্ট্র দপ্তরের পদক্ষেপ

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কেন হঠাৎ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কারণ জানা যায় দুদিন পরই। গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্র দপ্তরে একটি বিশেষ মেমো পাঠিয়েছেন। জে ক্লেটন ২৩ অক্টোবর এই মেমোটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে সরাসরি প্রেরণ করেন বলে অ্যাক্সিওস নিশ্চিত করেছে। এই মেমোর একটি অনুলিপি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সুনির্দিষ্ট খবর পেয়েছে, যার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে ইরান মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য মহাদেশে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই গোয়েন্দা সতর্কবার্তার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দপ্তরের উপস্থিতি কমানো হচ্ছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই বার্তা এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে। জে ক্লেটনের পাঠানো ‘অগোপনীয়’ মেমোর অনুলিপি অ্যাক্সিওসসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের হাতে আছে।

হতাহতের পেন্টাগন পরিসংখ্যান ও নিউইয়র্ক টাইমসের গোয়েন্দা বিশ্লেষণ

চলমান ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ২১ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। এর পাশাপাশি যুদ্ধে ৭৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। মেমোতে সতর্ক করা হয়েছে যে বিদেশের মাটিতে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইরানের হামলা পরিকল্পনা শুধু একটি সীমিত অঞ্চলের মধ্যে আটকে থাকবে না। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি ইরানের হুমকি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব রূপ নিয়েছে। এমনকি কিছু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ইরানি এজেন্টরা এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও মেমোটির বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নিউইয়র্ক টাইমসকে একজন প্রবীণ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়ামেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সরাসরি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা—এই দুই কারণেই বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে কর্মী কমানোর যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে আরেকজন মার্কিন কর্মকর্তা কিছুটা ভিন্ন মতামত দিয়ে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের হামলা চালানোর সামরিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা ইরানের অত্যন্ত সীমিত। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে যে সক্ষমতা সীমিত হলে ওয়াশিংটন কেন এত তড়িঘড়ি করে তাদের কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে ইরানের হাতে থাকা অত্যন্ত বিধ্বংসী ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। ইরানের হাতে যেসব অস্ত্র রয়েছে, সেগুলোর সক্ষমতা দেখে নেওয়া যাক। অন্যটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে ধারণা করা হয়।

ইরানের সামরিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিস্তৃত খতিয়ান

ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো দেশটির বিশাল ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ওয়াশিংটনের মূল দুশ্চিন্তার কারণ। ইরানের ইসলামিক রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে এবার ইরান কেবল রক্ষাত্মক বা পাল্টা হামলায় নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গুণগত মান, নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা, পাল্লা এবং সার্বিক ধ্বংসক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অন্তত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এগুলোর পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেজিলের পাল্লা প্রায় ২০০০ কিলোমিটার, এমাদের ১৭০০, গাদরের ২০০০, শাহাব-৩-এর ১৩০০ এবং খোররামশাহর ২০০০ কিলোমিটার। কিন্তু ইসরায়েল বারবারই দাবি করেছে, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দিয়েগো গার্সিয়ায় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের একটি প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পেরেছিল। এটির পাল্লা ২০০০ কিলোমিটারের বেশি। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রতিষ্ঠান কুদস এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করে মোহাজের সিরিজ। শাহেদ-১৩৬ ড্রোন রাশিয়া গেরান-২ নামে ব্যবহার করে।

ইরানের স্বল্প, মধ্য ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত তালিকা

  • স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রফাতেহ, জলফাগর, কিয়াম-১, শাহাব-১ এবং শাহাব-২। এগুলো আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রশাহাব-৩, এমাদ, গাদর-১, খোররামশাহ এবং সেজিল। এগুলো ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারে।
  • কঠিন জ্বালানি চালিত সেজিলএটি কঠিন জ্বালানি বা সলিড ফুয়েল ব্যবহার করে। ফলে তরল জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং পূর্বপ্রস্তুতির সময় পাওয়া যায় না।
  • বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক পাল্লাআল-জাজিরার তথ্যমতে, সেজিলের পাল্লা ২,০০০ কিমি, এমাদের ১,৭০০ কিমি, গাদরের ২,০০০ কিমি এবং শাহাব-৩-এর পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার।
  • আন্তর্জাতিক দ্বীপে হামলার অভিযোগগত ২০ মার্চ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন-যুক্তরাজ্য যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে।
  • পাল্লা বৃদ্ধির বৈশ্বিক আতঙ্কদিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা ইউরোপের লন্ডনের মতো বড় শহরগুলোকে সম্ভাব্য আঘাতের সীমানায় নিয়ে আসে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আশঙ্কা ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর উদ্বেগ

ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তীব্র আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছেন। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে গত ২৬ অক্টোবর এক জনাকীর্ণ নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে ইরান বর্তমানে এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো দিয়ে অনায়াসেই পুরো ইউরোপ মহাদেশে হামলা চালানো সম্ভব। ট্রাম্প আরও আশঙ্কাজনক দাবি করে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে ইরান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো মূল ভূখণ্ডের বড় বড় জনবহুল শহরগুলোতেও সরাসরি হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের এই বর্ধিত সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আশঙ্কার বিষয়টি আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি এবং দ্য কনভারসেশনসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। সিএনএন ও এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেভাবে জটিল হচ্ছে, তাতে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সাড়া দেবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরবর্তী মূল্যায়নের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদেশে মার্কিনদের ওপর হামলা পরিকল্পনা করছে ইরান: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের অনেকে সপরিবার তড়িঘড়ি করে অন্যত্র চলে যান এবং সন্তানদের নতুন স্কুলে ভর্তি করান।

সেই ঝক্কি সামলে তাঁদের অনেকে পরে আবার কর্মস্থলে ফিরে কাজ গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ, বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ।’।

তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে আবারও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের নিশানা করার তৎপরতা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

এ বছরের শুরুর দিকে যখন যুদ্ধ চরম রূপ নেয়, তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন দূতাবাস ও অন্যান্য মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়েছিল। এ বিষয়ে একজন মার্কিন কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল বললেও বাস্তবে তা কম বলা হবে। আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র নিকি গেমার উল্লেখ করেছেন যে চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন কূটনীতিকদের পরিবারগুলো যে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, আবারও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে।

যৌথ সামরিক অভিযান ও মার্কিন কূটনৈতিক মিশন খালি করার নির্দেশনা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত চললেও সামরিক তীব্রতা আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশন থেকে কর্মী প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নন—এমন কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে সৌদি আরব ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত সতর্ক করে বলা হচ্ছে যে এই অঞ্চলভিত্তিক সংঘাত যেকোনো সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে। শুধু সৌদি আরবই নয়, বরং জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও মিশনগুলো থেকেও কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। এএফপি, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন নকশার খাইবার শেকান ও হজ কাসেমও রয়েছে। এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ, গত ২০ মার্চ ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার চেষ্টা। ইরান অবশ্য এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে। যদিও এ নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ড্রোন। ইরানের ড্রোন কর্মসূচির সূচনা হয় ১৯৮০-এর দশকে, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। প্রচলিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে ইরান ড্রোনকে অসম যুদ্ধকৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তুলেছে।

জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের গোপনীয় মেমো ও পররাষ্ট্র দপ্তরের পদক্ষেপ

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কেন হঠাৎ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কারণ জানা যায় দুদিন পরই। গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্র দপ্তরে একটি বিশেষ মেমো পাঠিয়েছেন। জে ক্লেটন ২৩ অক্টোবর এই মেমোটি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে সরাসরি প্রেরণ করেন বলে অ্যাক্সিওস নিশ্চিত করেছে। এই মেমোর একটি অনুলিপি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সুনির্দিষ্ট খবর পেয়েছে, যার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে ইরান মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য মহাদেশে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই গোয়েন্দা সতর্কবার্তার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দপ্তরের উপস্থিতি কমানো হচ্ছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই বার্তা এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে। জে ক্লেটনের পাঠানো ‘অগোপনীয়’ মেমোর অনুলিপি অ্যাক্সিওসসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের হাতে আছে।

হতাহতের পেন্টাগন পরিসংখ্যান ও নিউইয়র্ক টাইমসের গোয়েন্দা বিশ্লেষণ

চলমান ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ২১ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। এর পাশাপাশি যুদ্ধে ৭৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। মেমোতে সতর্ক করা হয়েছে যে বিদেশের মাটিতে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে ইরানের হামলা পরিকল্পনা শুধু একটি সীমিত অঞ্চলের মধ্যে আটকে থাকবে না। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি ইরানের হুমকি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তব রূপ নিয়েছে। এমনকি কিছু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ইরানি এজেন্টরা এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও মেমোটির বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নিউইয়র্ক টাইমসকে একজন প্রবীণ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়ামেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সরাসরি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা—এই দুই কারণেই বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে কর্মী কমানোর যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে আরেকজন মার্কিন কর্মকর্তা কিছুটা ভিন্ন মতামত দিয়ে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের হামলা চালানোর সামরিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা ইরানের অত্যন্ত সীমিত। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে যে সক্ষমতা সীমিত হলে ওয়াশিংটন কেন এত তড়িঘড়ি করে তাদের কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে ইরানের হাতে থাকা অত্যন্ত বিধ্বংসী ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। ইরানের হাতে যেসব অস্ত্র রয়েছে, সেগুলোর সক্ষমতা দেখে নেওয়া যাক। অন্যটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে ধারণা করা হয়।

ইরানের সামরিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির বিস্তৃত খতিয়ান

ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো দেশটির বিশাল ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ওয়াশিংটনের মূল দুশ্চিন্তার কারণ। ইরানের ইসলামিক রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন যে এবার ইরান কেবল রক্ষাত্মক বা পাল্টা হামলায় নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গুণগত মান, নিখুঁত লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা, পাল্লা এবং সার্বিক ধ্বংসক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অন্তত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এগুলোর পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেজিলের পাল্লা প্রায় ২০০০ কিলোমিটার, এমাদের ১৭০০, গাদরের ২০০০, শাহাব-৩-এর ১৩০০ এবং খোররামশাহর ২০০০ কিলোমিটার। কিন্তু ইসরায়েল বারবারই দাবি করেছে, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বিবিসির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দিয়েগো গার্সিয়ায় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের একটি প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পেরেছিল। এটির পাল্লা ২০০০ কিলোমিটারের বেশি। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রতিষ্ঠান কুদস এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করে মোহাজের সিরিজ। শাহেদ-১৩৬ ড্রোন রাশিয়া গেরান-২ নামে ব্যবহার করে।

ইরানের স্বল্প, মধ্য ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত তালিকা

  • স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রফাতেহ, জলফাগর, কিয়াম-১, শাহাব-১ এবং শাহাব-২। এগুলো আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের জন্য ব্যবহার করা হয়।
  • মধ্যমপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রশাহাব-৩, এমাদ, গাদর-১, খোররামশাহ এবং সেজিল। এগুলো ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারে।
  • কঠিন জ্বালানি চালিত সেজিলএটি কঠিন জ্বালানি বা সলিড ফুয়েল ব্যবহার করে। ফলে তরল জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এটি দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং পূর্বপ্রস্তুতির সময় পাওয়া যায় না।
  • বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক পাল্লাআল-জাজিরার তথ্যমতে, সেজিলের পাল্লা ২,০০০ কিমি, এমাদের ১,৭০০ কিমি, গাদরের ২,০০০ কিমি এবং শাহাব-৩-এর পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার।
  • আন্তর্জাতিক দ্বীপে হামলার অভিযোগগত ২০ মার্চ ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন-যুক্তরাজ্য যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে।
  • পাল্লা বৃদ্ধির বৈশ্বিক আতঙ্কদিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা ইউরোপের লন্ডনের মতো বড় শহরগুলোকে সম্ভাব্য আঘাতের সীমানায় নিয়ে আসে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আশঙ্কা ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর উদ্বেগ

ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তীব্র আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছেন। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে গত ২৬ অক্টোবর এক জনাকীর্ণ নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে ইরান বর্তমানে এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো দিয়ে অনায়াসেই পুরো ইউরোপ মহাদেশে হামলা চালানো সম্ভব। ট্রাম্প আরও আশঙ্কাজনক দাবি করে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে ইরান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো মূল ভূখণ্ডের বড় বড় জনবহুল শহরগুলোতেও সরাসরি হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের এই বর্ধিত সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আশঙ্কার বিষয়টি আল-জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি এবং দ্য কনভারসেশনসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। সিএনএন ও এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেভাবে জটিল হচ্ছে, তাতে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সাড়া দেবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরবর্তী মূল্যায়নের ওপর।