নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ: বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট
- আপডেট সময় : ১০:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও শাস্তির বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশিত হয়েছে। চার পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় রোববার হাতে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
হাইকোর্টের আদেশ ও আপিলের ঘোষণা
বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ আগস্ট রিটটি খারিজের নির্দেশ দিয়ে আদেশ জারি করেন। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চতর আদালতে আপিল আবেদন দায়ের করবেন।
রিটের মূল বিষয়বস্তু ও আইনি ভিত্তি
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার সঙ্গে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অসাংবিধানিক ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আর্জি জানিয়ে রিটটি করা হয়। রিটকারীর যুক্তিতে বলা হয়, ১২৪ক ধারার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের সংজ্ঞা ও শাস্তির যে বিধান রাখা হয়েছে, তা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে এসব স্বাধীনতা ভোগ করতে হবে।
দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি কথা, লেখা, চিহ্ন বা দৃশ্যমান উপায়ে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা, অবজ্ঞা বা অসন্তোষ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সে যাবজ্জীবন বা অন্য মেয়াদের কারাদণ্ডসহ জরিমানায় দণ্ডিত হবে।
সংবিধান ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত আদেশে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের পর্যালোচনা তুলে ধরেন, যেখানে চিন্তা, বিবেক, বাক্ স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানান সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের দফা (১) অনুযায়ী চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের দফা (২) অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সং।
- দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার কারণে কোনো নাগরিক বাক্স্বাধীনতা বা সংবাদপত্রের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রিটে আনা হয়নি।
- ধারাটি প্রয়োগ করে সরকার কারও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে বা পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সংক্রান্ত কোনো উদাহরণও উল্লেখ করা হয়নি।
- ধারার ৩য় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সরকারের কোনো নীতি বা প্রশাসনিক কাজের প্রতি অসন্তোষ উসকে না দিয়ে আইনানুগ অসম্মতি প্রকাশ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না।
সুনির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগী বা সারবত্তা না থাকায় হাইকোর্ট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে ইশরাত হাসান নিজে এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ অংশ নেন। এ পর্যায়ে আবেদনটির কোনো সারবত্তা পাওয়া যাচ্ছে না।





















