ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মুন্সিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বাবা ও শিশুর মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোলাপ হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে তোয়াবার মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে নানার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে ইটভাটা এলাকায় হামলার শিকার হন তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় গোলাপ হোসেন বাড়ি ফিরলেও শিশু তোয়াবাকে তখন খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি ইটভাটার পাশে কাশবন থেকে শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাবার সঙ্গে দাদার বাড়ি থেকে রাতে নানার বাড়ি যাচ্ছিল চার বছরের ছোট্ট তোয়াবা। এতে ছোট্ট মেয়েটি বাবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। এদিকে শিশু তোয়াবাকে রাতে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি স্বজনেরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমার ভাইয়েরা মামলা করায় তারা আমার ছেলেকে কয়েকবার মারধর করেছে। আজ সকালে রামকৃষ্ণদী এলাকার কাশবনে তার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।

নিহত গোলাপ হোসেন ওই গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

তিনি সপরিবারে একই ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। পেশায় দিনমজুর গোলাপ বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, গোলাপের মামাদের সঙ্গে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মামলা ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার রাতে হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর আহত গোলাপকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে কেরানীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আবার ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। আর দুপুরে হাসপাতালে মারা গেছেন বাবা। এ নিয়ে দুই পক্ষ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছে। জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আগেও মারামারি হয়েছে। এশার নামাজের পর মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

নিহতের মা হাসু বেগম অভিযোগ করেন, সোহরাব হোসেন ও তাঁর দলবল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সামান্য জমির বিরোধের জের ধরে সোহরাব আমার ছেলে ও নাতনিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’ এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে। পুলিশের হেফাজতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিই সামনে আসছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত গোলাপের মা হাসু বেগম বলেন, ‘সোহরাবরা আমার ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে গেছে। আমাকেও একাধিকবার মারার চেষ্টা করেছে।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হাসান জানান, শিশু তোয়াবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে গোলাপ হোসেন নিজেই হামলায় সোহরাবসহ কয়েকজনের জড়িত থাকার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল বর্তমানে অভিযান চালাচ্ছে। সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুন্সিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বাবা ও শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোলাপ হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে তোয়াবার মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে নানার বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে ইটভাটা এলাকায় হামলার শিকার হন তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় গোলাপ হোসেন বাড়ি ফিরলেও শিশু তোয়াবাকে তখন খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি ইটভাটার পাশে কাশবন থেকে শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাবার সঙ্গে দাদার বাড়ি থেকে রাতে নানার বাড়ি যাচ্ছিল চার বছরের ছোট্ট তোয়াবা। এতে ছোট্ট মেয়েটি বাবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। এদিকে শিশু তোয়াবাকে রাতে অনেক খোঁজাখুজি করেও পাননি স্বজনেরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমার ভাইয়েরা মামলা করায় তারা আমার ছেলেকে কয়েকবার মারধর করেছে। আজ সকালে রামকৃষ্ণদী এলাকার কাশবনে তার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।

নিহত গোলাপ হোসেন ওই গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

তিনি সপরিবারে একই ইউনিয়নের দোসরপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। পেশায় দিনমজুর গোলাপ বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, গোলাপের মামাদের সঙ্গে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মামলা ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার রাতে হামলার শিকার হওয়ার পর গুরুতর আহত গোলাপকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে কেরানীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল বেলা ১১টার দিকে তাঁকে আবার ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। আর দুপুরে হাসপাতালে মারা গেছেন বাবা। এ নিয়ে দুই পক্ষ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছে। জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আগেও মারামারি হয়েছে। এশার নামাজের পর মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

নিহতের মা হাসু বেগম অভিযোগ করেন, সোহরাব হোসেন ও তাঁর দলবল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সামান্য জমির বিরোধের জের ধরে সোহরাব আমার ছেলে ও নাতনিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’ এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে। পুলিশের হেফাজতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিই সামনে আসছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত গোলাপের মা হাসু বেগম বলেন, ‘সোহরাবরা আমার ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে গেছে। আমাকেও একাধিকবার মারার চেষ্টা করেছে।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হাসান জানান, শিশু তোয়াবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে গোলাপ হোসেন নিজেই হামলায় সোহরাবসহ কয়েকজনের জড়িত থাকার কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল বর্তমানে অভিযান চালাচ্ছে। সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।