ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পাবনায় স্থানীয় হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে দুইজনের প্রাণহানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক হামলায় শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুস সালাম (৫৭) ও তার ভাতিজা রিপন হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ইজারাদারের নিজস্ব কার্যালয়ে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুস সালাম পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং একই থানার পুষ্পপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরজ আলীর ছেলে ছিলেন। তার ভাতিজা রিপন হোসেন ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমেদ আলীর ছেলে, যিনি হাটের ইজারাসংক্রান্ত কাজে সহায়তা করতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আব্দুস সালাম এবং রিপন হাটের কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের অফিসে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় ৫-৭ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতে সেখানে উপস্থিত হয়। দুর্বৃত্তরা শুরুতেই আব্দুস সালামকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। সে সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রিপনকেও লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। হামলায় দুজনেই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন এবং দুর্বৃত্তরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হাটের ইজারা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধ থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন গোষ্ঠী বা কেন এই হামলা চালানো হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আতাইকুলা থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুষ্পপাড়া হাট ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাবনায় স্থানীয় হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে দুইজনের প্রাণহানি

আপডেট সময় : ১০:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার সদর উপজেলার পুষ্পপাড়া হাটের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক হামলায় শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুস সালাম (৫৭) ও তার ভাতিজা রিপন হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ইজারাদারের নিজস্ব কার্যালয়ে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুস সালাম পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং একই থানার পুষ্পপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরজ আলীর ছেলে ছিলেন। তার ভাতিজা রিপন হোসেন ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমেদ আলীর ছেলে, যিনি হাটের ইজারাসংক্রান্ত কাজে সহায়তা করতেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আব্দুস সালাম এবং রিপন হাটের কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের অফিসে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় ৫-৭ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতে সেখানে উপস্থিত হয়। দুর্বৃত্তরা শুরুতেই আব্দুস সালামকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। সে সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রিপনকেও লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। হামলায় দুজনেই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন এবং দুর্বৃত্তরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, হাটের ইজারা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধ থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন গোষ্ঠী বা কেন এই হামলা চালানো হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আতাইকুলা থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুষ্পপাড়া হাট ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।