ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ মার্কিন ঘাঁটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলায় অঞ্চলটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ২৬টির বেশি ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আগস্ট পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি শত কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলাকারী পক্ষ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাগুলো অকেজো করে দেয়। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাডার কাঠামো ধ্বংস করার পর, তারা সরাসরি মার্কিন উড়োজাহাজ রাখার স্থাপনা, গুদাম ও সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৫টি মার্কিন উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হওয়া এক হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অকেজো হয়ে যায়। এছাড়া কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানির তথ্যও উঠে এসেছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন বা সামরিক বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন রেখেছে বা স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশে বিলম্ব করেছে, তবে স্বাধীন বিশ্লেষণে ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প মূল্যের ড্রোনের সাহায্যে মার্কিন বাহিনীর এমন ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন রূপ। এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার দিন শেষ হয়ে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ মার্কিন ঘাঁটি

আপডেট সময় : ০৯:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলায় অঞ্চলটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ২৬টির বেশি ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আগস্ট পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি শত কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলাকারী পক্ষ প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাগুলো অকেজো করে দেয়। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাডার কাঠামো ধ্বংস করার পর, তারা সরাসরি মার্কিন উড়োজাহাজ রাখার স্থাপনা, গুদাম ও সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সৌদি আরব, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৫টি মার্কিন উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হওয়া এক হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অকেজো হয়ে যায়। এছাড়া কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার প্রাণহানির তথ্যও উঠে এসেছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন বা সামরিক বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে এসব ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন রেখেছে বা স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশে বিলম্ব করেছে, তবে স্বাধীন বিশ্লেষণে ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প মূল্যের ড্রোনের সাহায্যে মার্কিন বাহিনীর এমন ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন রূপ। এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার দিন শেষ হয়ে আসছে।