ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন হামলার দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে মঙ্গলবার ভোরে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাগুলো ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার ভাষ্যমতে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় সমুদ্রের দিক থেকে বিকট আওয়াজ ভেসে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানকে লক্ষ্য করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন বাহিনী ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এসব সামরিক অভিযান মূলত প্রতিরক্ষামূলক। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং ইরান যেন জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেজন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে, যার প্রেক্ষিতে ইরানও ইসরায়েলের পাশাপাশি আঞ্চলিক মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়।

এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে তাদের লড়াই হয়েছে এবং তারা তাতে জয়ী হয়েছেন। তবে বিষয়টিকে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, কয়েক মাস ধরে কোনো বড় ধরনের লড়াই হচ্ছে না। এমন এক সময়ে বিস্ফোরণের খবর সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না।

উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। দোহায় এ বিষয়ে আলোচনার জন্য উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি সফরও করেছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। যদিও এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন এখনো থমকে আছে। বর্তমানে এই নতুন বিস্ফোরণের ঘটনাটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন হামলার দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে মঙ্গলবার ভোরে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাগুলো ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার ভাষ্যমতে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহ এলাকায় সমুদ্রের দিক থেকে বিকট আওয়াজ ভেসে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানকে লক্ষ্য করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন বাহিনী ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এসব সামরিক অভিযান মূলত প্রতিরক্ষামূলক। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং ইরান যেন জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সেজন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে, যার প্রেক্ষিতে ইরানও ইসরায়েলের পাশাপাশি আঞ্চলিক মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়।

এই পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে তাদের লড়াই হয়েছে এবং তারা তাতে জয়ী হয়েছেন। তবে বিষয়টিকে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, কয়েক মাস ধরে কোনো বড় ধরনের লড়াই হচ্ছে না। এমন এক সময়ে বিস্ফোরণের খবর সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না।

উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। দোহায় এ বিষয়ে আলোচনার জন্য উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সম্প্রতি সফরও করেছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। যদিও এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন এখনো থমকে আছে। বর্তমানে এই নতুন বিস্ফোরণের ঘটনাটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা।