মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে তৎপর চীন, ওমানের সুলতানের সাথে বৈঠক
- আপডেট সময় : ১১:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে চীন। গত সোমবার বেইজিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই আলোচনায় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, দীর্ঘায়িত সংঘাত থামানোর একমাত্র উপায় হলো সংলাপ। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে চলমান সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই দায়ী করেছেন।
একই সময়ে বেইজিংয়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৯৭৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর পর ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের এটাই প্রথম চীন সফর। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ সময় মন্তব্য করেন যে, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে কোনোভাবেই ভূ-রাজনৈতিক লড়াই বা মহাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান বানানো উচিত নয়। সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ‘নতুন ঐতিহাসিক শুরুর বিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করে শি জিনপিং চীনের জ্বালানি আমদানির জন্য এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন।
জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে ওমানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত কৌশলগত।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ প্রবাহিত হয়, যা অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। ওমানের অনেক বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সফরে চীন ও ওমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ শক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলসহ মোট ১৪টি সহযোগিতা চুক্তি ও একটি কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে আহ্বান জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালির অপর পাশে অবস্থিত ওমান কৌশলগত এই জলপথে নৌপথ নিরাপত্তার জন্য একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে, যা দিয়ে ইউএস-ইরান সংঘাতের কারণে চলাচল সীমিত হওয়ার আগে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রবাহিত হতো। এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালু করার আহ্বান জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরার নির্দেশ দেয়।
ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা অনেকটা স্থবির ছিল। তবে বেইজিং এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অধৈর্য হয়ে উঠছে এবং এই প্রক্রিয়ায় পুনরায় সক্রিয় হতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি মাসেই চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান এবং সৌদি আরব সফর করবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬টি মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস এবং শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও আলোচনায় এসেছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান। তবে বেইজিং চলমান প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে চায় এবং অগ্রগতির অভাবে তারা ক্রমশ অধৈর্য হয়ে উঠছে। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের।























