দেশে হামের প্রকোপ বাড়ছে: গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ছয়জনের
- আপডেট সময় : ০৭:০২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
সারা দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ছয়জন মারা গেছেন। একই সময়ের ব্যবধানে সারা দেশে ১ হাজার ৩১৮ জন নতুন রোগীর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি পরীক্ষায় ৮২ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০ জনে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২৩ জন হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৭৩। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ১ হাজার ১৫৮ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হামের রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৫৪৬ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩৬ জন, সিলেটে ১৪২, বরিশালে ১৩২, ময়মনসিংহে ১০০, খুলনায় ৯৪, রংপুরে ৩৫ এবং রাজশাহী বিভাগে ৩৩ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা গেলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। মার্চ মাসে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও তখন প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গিয়েছিল। গবেষকদের মতে, ২০২৫ সালে তৎকালীন সরকারের টিকাদানে গাফিলতিই বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। প্রায় এক দশক ধরে নিয়ন্ত্রণে থাকা হামের প্রকোপ এবার দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছে। এর পেছনে মূল কারণ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদানে গাফিলতি, গবেষকেরা তা–ই মনে করেন। পরে মার্চে হাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের এই ব্যর্থতার জন্যই এখনো হামের প্রকোপ এবং এতে মৃত্যু কমছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।























