ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানালেন মালালা

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০২:৪০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই। বিক্ষোভে নারী ও কিশোরীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক এক্স পোস্টে মালালা বলেছেন, ‘ইরানের বিক্ষোভকে শিক্ষাসহ জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে নারীদের স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্র আরোপিত দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। ইরানি মেয়েরা অন্য সব মেয়ের মতো মর্যাদার জীবন চায়।’

মালালা ইউসুফজাই আরও বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ইরানের মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। নারীদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ লিঙ্গভিত্তিক নিয়ন্ত্রণেরই অংশ। যা পৃথক করার মাধ্যমে, নজরদারির মাধ্যমে ও শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।’

মালালা বলেন, ‘ইরানের নারীরা চাইছেন ‘তাদের কথা শোনা হোক ও তারা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার পাক। বাইরের কোনো শত্রু বা দমনমূলক শাসক নয় সেই ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে ইরানের নারীদের নেতৃত্বের মাধ্যমে। আমি ইরানের মানুষ ও মেয়েদের স্বাধীনতা-মর্যাদার দাবির সমর্থনে তাদের পাশে রয়েছি। তারা নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রাখে।’আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিয়ে সতর্ক করলো কাতার

মালালা এর আগেও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। সর্বশেষ ডিসেম্বরে তিনি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সঙ্গে একমত হয়ে নারগেস মোহাম্মাদির গ্রেফতারের নিন্দা জানান।

ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা।

ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চলমান অস্থিরতা উস্কে দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে এবং সেই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে। ফলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যাপক হতাহতের তথ্যও সামনে আসছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকালে ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী—উভয় পক্ষের মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা নির্দিষ্ট করে জানাননি ওই কর্মকর্তা।আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভে ২ হাজার মানুষ নিহত: রয়টার্স

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) নিহতের সংখ্যা ৬৪৬ বলে জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী এবং নয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮৭টি শহরের ৬০৬টি স্থানে বিক্ষোভ রেকর্ড করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানালেন মালালা

আপডেট সময় : ০২:৪০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই। বিক্ষোভে নারী ও কিশোরীদের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি। খবর আল জাজিরার।আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক এক্স পোস্টে মালালা বলেছেন, ‘ইরানের বিক্ষোভকে শিক্ষাসহ জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে নারীদের স্বাধীনতার ওপর রাষ্ট্র আরোপিত দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। ইরানি মেয়েরা অন্য সব মেয়ের মতো মর্যাদার জীবন চায়।’

মালালা ইউসুফজাই আরও বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ইরানের মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। নারীদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ লিঙ্গভিত্তিক নিয়ন্ত্রণেরই অংশ। যা পৃথক করার মাধ্যমে, নজরদারির মাধ্যমে ও শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়।’

মালালা বলেন, ‘ইরানের নারীরা চাইছেন ‘তাদের কথা শোনা হোক ও তারা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার পাক। বাইরের কোনো শত্রু বা দমনমূলক শাসক নয় সেই ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে ইরানের নারীদের নেতৃত্বের মাধ্যমে। আমি ইরানের মানুষ ও মেয়েদের স্বাধীনতা-মর্যাদার দাবির সমর্থনে তাদের পাশে রয়েছি। তারা নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রাখে।’আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিয়ে সতর্ক করলো কাতার

মালালা এর আগেও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। সর্বশেষ ডিসেম্বরে তিনি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সঙ্গে একমত হয়ে নারগেস মোহাম্মাদির গ্রেফতারের নিন্দা জানান।

ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা।

ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চলমান অস্থিরতা উস্কে দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে এবং সেই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে। ফলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যাপক হতাহতের তথ্যও সামনে আসছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকালে ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী—উভয় পক্ষের মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ আর কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা নির্দিষ্ট করে জানাননি ওই কর্মকর্তা।আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভে ২ হাজার মানুষ নিহত: রয়টার্স

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) নিহতের সংখ্যা ৬৪৬ বলে জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী এবং নয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮৭টি শহরের ৬০৬টি স্থানে বিক্ষোভ রেকর্ড করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভ থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইরান সরকার চলমান বিক্ষোভে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।