অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৮:২৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
দেশের শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে এবং ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী গোষ্ঠী দেশের ভেতর ও সীমান্তের ওপার থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অর্থ জুগিয়ে চলেছে। এসব চক্রান্ত মোকাবিলায় দেশের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের কয়েকটি কল-কারখানায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে ল্যাপটপের বাটন চেপে এই অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পৌঁছে যায়। অনুষ্ঠানে আখচাষিদের সার্বিক সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। টাকা জমা হওয়ার বার্তা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পান কৃষকরা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও শান্তিতে বাস করতে চায়। কিন্তু একটি গোষ্ঠী দেশের এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চক্রান্ত লিপ্ত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, বিএনপি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে। এই কারণে ২০২৪-এর শহীদ পরিবার ও চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির দায়িত্ব। আহতদের সুচিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, বিএনপি ৭১-কে ধারণ করে, বিএনপি ২৪-কে ধারণ করে।
বক্তব্যে কিছু রাজনৈতিক দলের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, মুখে এক কথা বললেও কাজে তার দেখা মেলে না। অথচ দেশের জনগণ কেবল স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান চায়। এই অঞ্চলের পানি সংকট নিরসনে তিনি তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পদ্মা নদীর ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী অঞ্চলসহ সংলগ্ন ১৪টি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে দ্রুত আলোচনার কথা জানান তিনি। জনগণ চায় কর্মসংস্থান ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
সরকারের মূল পরিকল্পনাসমূহ—যেমন কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, হাসপাতাল উন্নয়ন ও ব্যারেজ নির্মাণ কাজ বেগবান করতে জনগণের জোরালো সমর্থন চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের শক্তিতেই সরকার সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবে।
রাজশাহী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, মেজর (অব.) শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আলিম এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ। শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্প।

























