ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নুরুল হক নুরকে শোকজ

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পটুয়াখালী-৩ আসনের (দশমিনা–গলাচিপা) জন্য গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এ নোটিশ জারি করা হয়। দশমিনাস্থ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জারি করা নোটিশে স্বাক্ষর করেন কমিটির সদস্য (সিভিল জজ, বরিশাল) সাব্বির মো. খালিদ। বিষয়টি শুক্রবার রাতে প্রকাশ্যে আসে।

নোটিশ সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট এনামুল হকের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালান এবং তার কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারার পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং কেন নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না—সে বিষয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ দ্রুত জারি করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে জোটগত সমঝোতার কারণে বিএনপি এ আসনে আলাদা প্রার্থী না দিয়ে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন হাসান মামুন।

বর্তমানে নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রচারণার শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি বকুলবাড়িয়া এলাকায় সংঘর্ষ ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায়ও একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন দুই প্রার্থী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নুরুল হক নুরকে শোকজ

আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন-পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের বিএনপি-সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পটুয়াখালী-৩ আসনের (দশমিনা–গলাচিপা) জন্য গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এ নোটিশ জারি করা হয়। দশমিনাস্থ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জারি করা নোটিশে স্বাক্ষর করেন কমিটির সদস্য (সিভিল জজ, বরিশাল) সাব্বির মো. খালিদ। বিষয়টি শুক্রবার রাতে প্রকাশ্যে আসে।

নোটিশ সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট এনামুল হকের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে নুরুল হক নুরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালান এবং তার কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এ ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬(ক) ধারার পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং কেন নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না—সে বিষয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ দ্রুত জারি করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে জোটগত সমঝোতার কারণে বিএনপি এ আসনে আলাদা প্রার্থী না দিয়ে নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন হাসান মামুন।

বর্তমানে নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রচারণার শুরু থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটছে। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি বকুলবাড়িয়া এলাকায় সংঘর্ষ ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায়ও একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন দুই প্রার্থী।